মমতার জেদ বনাম সংবিধান! ইস্তফা না দিলে কি বরখাস্ত হবেন মুখ্যমন্ত্রী? রাজ্যপালের হাতে থাকা ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ চিনুন

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। তৃণমূল নেত্রী পরাজয়কে অস্বীকার করে রাজভবনে যেতে অস্বীকার করায় প্রশ্ন উঠছে— জনমতে পরাজিত হওয়ার পরেও কি কোনো মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন? আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ান, তবে ভারতের সংবিধান রাজ্যপালকে এমন কিছু চূড়ান্ত ক্ষমতা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন।

স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে না হাঁটায় এখন বল পুরোপুরি রাজভবনের কোর্টে।

রাজ্যপালের হাতে থাকা সেই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ কী? ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা রাজ্যপালের ‘সন্তোষ’ (Pleasure) অনুযায়ী পদে আসীন থাকেন। যদিও সাধারণত বিধানসভার সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই এটি নির্ধারিত হয়, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন বিজেপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছে এবং মানুষ বর্তমান সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন রাজ্যপাল তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

আইনজীবীদের মতে, যদি মুখ্যমন্ত্রী নৈতিকভাবে ইস্তফা না দেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো সত্ত্বেও পদ আঁকড়ে থাকেন, তবে রাজ্যপাল নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন:

  • স্বতঃপ্রণোদিত বরখাস্ত: রাজ্যপাল যদি দেখেন যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন এবং নতুন সরকার গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন, তবে তিনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন।

  • অ্যাডভাইজরি জারি: রাজভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইস্তফা দেওয়ার জন্য কড়া বার্তা পাঠানো হতে পারে। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে রাজ্যপাল চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন।

  • রাষ্ট্রপতি শাসন: পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবে রাজ্যপাল ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন, যাতে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: বিজেপি শিবির ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাচ্ছেন। বিরোধী শিবিরের মতে, মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করার কোনো ক্ষমতা মমতার নেই। রাজভবন যদি কড়া অবস্থান নেয়, তবে হয়তো ভারতের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা— যেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার নোটিশ হাতে নিয়ে বিদায় নিতে হবে।

এখন দেখার বিষয়, রাজ্যপাল আনন্দ বোস এই সাংবিধানিক সংকট কাটাতে শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটেন। মমতা কি রাজভবনের পদক্ষেপের আগেই ইস্তফা দেবেন, নাকি বাংলার রাজনীতি আরও বড় কোনো আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy