বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তাল গোটা রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি সংবিধানের পাঠ দিলেন নন্দীগ্রামের জয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ইস্তফা বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এক মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজভবনে যাব না, ইস্তফাও দেব না’—এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংবিধানে সবকিছু স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বা কী হতে পারে, তা নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।” শুভেন্দুর এই সংক্ষিপ্ত বার্তার নেপথ্যে এক গভীর আইনি হুঁশিয়ারি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুভেন্দুর নিশানায় সংবিধান ও রীতিনীতি: শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে পরাজিত হওয়ার পর ক্ষমতার আঁকড়ে থাকা কেবল অসাংবিধানিকই নয়, বরং জনমতের অবমাননাও বটে। তিনি প্রকারান্তরে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় গদি না ছাড়েন, তবে রাজ্যপালের হাতে সংবিধান প্রদত্ত এমন কিছু ক্ষমতা রয়েছে যার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব।
আইনি সংকটের ইঙ্গিত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে সংবিধানের ১৬৪ নম্বর অনুচ্ছেদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যেখানে রাজ্যপালের বিশেষ ক্ষমতা এবং বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি রাজভবন খুব শীঘ্রই কোনো কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে?
বিজেপি শিবিরের দাবি, জনতা যাঁকে বর্জন করেছে, তাঁর কুর্সি দখল করে রাখার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। শুভেন্দুর এই ‘সংবিধান’ অস্ত্র কি শেষ পর্যন্ত মমতাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করবে? নাকি বাংলার রাজনীতি আরও বড় কোনো আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।





