ভারতের ‘ব্রহ্মাস্রে’ কাঁপবে চিন? ভিয়েতনামের সঙ্গে ৬০০০ কোটির মেগা চুক্তির পথে মোদী সরকার!

দক্ষিণ চীন সাগরে চিনা ড্রাগনের দাদাগিরি রুখতে এবার বড়সড় রণকৌশল সাজাচ্ছে ভারত ও ভিয়েতনাম। ফিলিপিন্স এবং ইন্দোনেশিয়ার পর এবার ভারতের শক্তিশালী ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেতে চলেছে ভিয়েতনাম। সূত্রের খবর, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম-এর চলতি ভারত সফরেই এই মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ভিয়েতনামের সঙ্গে এই সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৬০ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৬০০০ কোটি রুপি)। এই চুক্তির আওতায় কেবল ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নয়, ভিয়েতনামী সেনাকে প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাপোর্টও প্রদান করবে ভারত।

কেন এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? ১. চিনকে পাল্টা চাপ: দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিবাদ রয়েছে। ভিয়েতনামের হাতে ব্রহ্মস আসার অর্থ হলো সমুদ্রসীমায় চিনা রণতরীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা। ২. মেক ইন ইন্ডিয়া-র সাফল্য: ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক। ইতিমধ্যেই ভারত ফিলিপিন্সের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে এবং মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ৩. ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত সম্পর্ক: দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত অর্থ বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে।

প্রেসিডেন্ট তো লাম-এর সফর: ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবারই ভারতের বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র বোধগয়ায় পৌঁছেছেন। ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত তাঁর এই সফরে দিল্লির অলিন্দে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও, এখনই অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনা যে স্তরে পৌঁছেছে তাতে চুক্তি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

ভারতের এই ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসি এবং ভিয়েতনামের হাতে ব্রহ্মস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চিনা সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে এটি নয়াদিল্লির এক জোরালো কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy