বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের জোরপূর্বক বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, নির্বাচনের ফল বেরোতেই বিজয়ী পক্ষ ‘অত্যাচারের রাজনীতি’ শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “ওঁরা এখনই আমাদের দলের সবার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার শুরু করেছে। তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের নিয়ে উদ্বেগ: কেবল সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীই নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির আরও গভীরে। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের তফশিলি জাতি (SC) এবং তফশিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। মমতা বলেন, “অসহায় মানুষের ওপর অত্যাচার করা শুরু হয়েছে। তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
কেন এমন দাবি মমতার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর অনেক এলাকাতেই তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে দলত্যাগের একটা প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ ও ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর’-এর মতো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের দলবদল স্বাভাবিক নয় বরং ভয়ের আবহ তৈরি করে করা হচ্ছে।
বিজেপি অবশ্য মমতার এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, পরাজয়ের পর মানুষের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মনগড়া অভিযোগ করছেন। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মমতার এই জোরালো প্রতিবাদ বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপকে এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
তৃণমূল নেত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির পর আক্রান্ত এলাকায় কোনো বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।





