বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর এবার পাল্টা রণকৌশল সাজাতে শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হারের কারণ বিশ্লেষণ এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ (Fact Finding Committee) গঠন করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এবারের নির্বাচনের ফলাফলের নেপথ্যে এমন কিছু কারণ রয়েছে যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক এবং সংগঠনের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয়গুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে এই ১০ জনের বিশেষজ্ঞ দল।
কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশে গঠিত এই কমিটিতে দলের অভিজ্ঞ নেতা ছাড়াও কয়েকজন প্রশাসনিক ও আইনি বিশেষজ্ঞ থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। এই কমিটি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেবে: ১. নির্দিষ্ট কিছু বুথ ও আসনে অস্বাভাবিক ভোটের ব্যবধানের কারণ। ২. ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হওয়া অভিযোগ ও অশান্তির বিবরণ। ৩. নির্বাচনের দিন এবং গণনার সময় কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করা।
রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পরাজয় স্বীকার করার পরিবর্তে তাঁর এই পাল্টা আইনি ও অনুসন্ধানী অবস্থান কি আসলে রাজভবন ও কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরির কৌশল? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “মানুষের রায়কে ধামাচাপা দিতেই এখন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির নাটক করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সত্যের উন্মোচন হওয়া দরকার। আমাদের কর্মীরা কোথায় এবং কেন আক্রান্ত হলেন, তার প্রতিটি তথ্য এই কমিটি সংগ্রহ করবে।”
নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্য যখন পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসছে, ঠিক তখনই মমতার এই নয়া চাল বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, এই ১০ জনের কমিটির রিপোর্টে ঠিক কী কী তথ্য উঠে আসে এবং তার ভিত্তিতে তৃণমূল নেত্রী পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন।





