২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। একদিকে যখন বাংলায় গেরুয়া ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে তখন পরাজয় মেনে নিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, “ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
‘ভোট লুঠের’ অভিযোগ ফল ঘোষণার পর এই প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “আমরা হারিনি, আসলে সুপরিকল্পিতভাবে ভোট লুঠ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে মানুষকে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।” শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে তিনি ‘ষড়যন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। মমতার প্রশ্ন, “যেখানে মানুষ আমাদের পাশে আছেন, সেখানে কেন আমি ইস্তফা দেব?”
রাজভবন বয়কটের ডাক সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজভবনে যাবেন না এবং বর্তমানে রাজ্যপালের সাথে কোনো আলোচনাতেও বসবেন না। রাজভবনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কার্যত রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ দপ্তরের সাথে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।
শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ এদিকে মমতার এই ‘জেদ’ এবং ‘ইস্তফা না দেওয়ার’ সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “হিন্দুদের ভোটেই ভবানীপুর জয়ী হয়েছে। মানুষ জনমত দিয়ে দিয়েছেন, এখন হারের পর এই ধরণের নাটক করে কোনো লাভ হবে না।” বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজয় মেনে নিয়ে সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোই উচিত ছিল মমতার।
আগামী দিন কোন দিকে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থানের ফলে আইনি ও সাংবিধানিক পথে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে মমতার ‘লড়াই জারি রাখার’ বার্তা তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আপাতত সকলের নজর নবান্ন এবং রাজভবনের দিকে। বাংলার রাজনীতিতে এই নাটকীয় মোড় শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।





