ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। তৃণমূলের ভরাডুবি আর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পরদিনই বদলে গেল কালীঘাটের চেনা ছবিটা। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে গলিটি ছিল কার্যত দুর্ভেদ্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘নিষিদ্ধ’, মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। সরিয়ে নেওয়া হলো দীর্ঘদিনের সেই পরিচিত ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’।
এতদিন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই গলিতে প্রবেশ করা ছিল রীতিমতো হিমালয় জয়ের সমান। প্রবেশপথেই মোতায়েন থাকত বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রতিটি মানুষকে পরিচয়পত্র দেখিয়ে, যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তবেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলত। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আধার কার্ড বা বিশেষ পাস ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া ছিল দুঃসাধ্য। কাঁচির মতো দেখতে বিশেষ ওই ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ দিয়ে আগন্তুকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হতো প্রতিনিয়ত।
কিন্তু মঙ্গলবার সকাল হতেই দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। সেই কড়া নজরদারি উধাও। পুলিশ থাকলেও নেই সেই চিরপরিচিত জিজ্ঞাসাবাদের ঘটা। সরানো হয়েছে ব্যারিকেডও। ফলে এতদিন যে রাস্তাটি ছিল সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে, আজ সেখানে সাধারণ মানুষ অবাধে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ এক যুগ পর তাঁরা নিজেদের পাড়ায় এক অন্যরকম স্বাধীনতা অনুভব করছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত পর্যন্ত এলাকাটি ছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পর যখন বিজেপির বিজয় মিছিল বাড়ির কাছ দিয়ে গিয়েছে, তখনও নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ছিল অটুট। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই ছবি পাল্টে যাওয়াকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা না মিললেও, পরিবর্তনের ঝড়ে যে কালীঘাটের অন্দরমহলের সমীকরণ বদলেছে, এই ‘অবাধ যাতায়াত’ তারই প্রমাণ।
এক সময়ের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির ভরকেন্দ্র আজ যেন অনেকটাই নিঃশব্দ। যে গলিতে একসময় ভিভিআইপিদের লম্বা লাইন থাকত, আজ সেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ আনাগোনা রাজনৈতিক পালাবদলের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল।





