রাজনাথ নন, স্বয়ং অমিত শাহ! বাংলার নেতা বাছতে কেন হঠাৎ ময়দানে চাণক্য? জল্পনা তুঙ্গে

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় প্রশ্ন—কে বসবেন বাংলার মসনদে? এই জল্পনার মাঝেই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাধারণত এই ধরণের প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে রাজনাথ সিংয়ের মতো নেতাদের দেখা গেলেও, বাংলার ক্ষেত্রে দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপি সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিধায়ক দলের নেতা বাছার প্রক্রিয়াটি তদারকি করবেন খোদ শাহ। আজ বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে ‘সেন্ট্রাল অবজারভার’ বা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।

কিন্তু কেন রাজনাথ সিংয়ের বদলে অমিত শাহকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার এই জয় বিজেপির কাছে অত্যন্ত মর্যাদার এবং সংবেদনশীল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই সাফল্য আসায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন এক মুখকে বেছে নিতে চাইছে দিল্লি, যাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। আর সেই কারণেই দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অমিত শাহ নিজেই সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে নামছেন।

অমিত শাহের এই সফর এবং সশরীরে উপস্থিত থেকে নেতা নির্বাচনের বিষয়টি শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। কারণ, বঙ্গ জয়ের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দুর সমন্বয় ছিল নজরকাড়া।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শাহ কলকাতায় এসে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠকেই সিলমোহর পড়বে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর নামে। দিল্লির এই বিশেষ চালে পরিষ্কার যে, বাংলার নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কড়া এবং সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখন দেখার, শাহের হাত ধরে কার কপালে ওঠে রাজতিলক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy