বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই কালীঘাটের বাসভবন থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হারের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, নৈতিকভাবে তাঁরাই জয়ী হয়েছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদের মায়া ত্যাগ করে মানুষের জন্য রাস্তায় নামার সংকল্পও শোনা গেল তাঁর গলায়।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, গণনায় কারচুপি এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই তাঁদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হারিনি, আমরাই জিতেছি। মানুষের সমর্থন আমাদের সাথেই আছে। কিন্তু যেভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তার নেপথ্যে বড় রহস্য রয়েছে।” হারের দায় ঝেড়ে ফেলে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীদের দিকে।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পদত্যাগ নিয়ে চলা জল্পনার জবাবে মমতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “আমি চেয়ারের কেয়ার করি না। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য। ক্ষমতার মায়া আমার নেই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, পরাজয়ের পর ভেঙে না পড়ে তিনি বরং পুরনো ‘লড়াকু’ মেজাজেই ফিরতে চাইছেন।
তৃণমূল নেত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। পরাজয় মেনে না নিয়ে তাঁর এই ‘জয়’-এর দাবি নির্বাচনী লড়াইকে আদালতের দোরগোড়ায় বা রাজপথের আন্দোলনে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতেই নেত্রী এমন রণংদেহি অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘চেয়ার’ ত্যাগের হুঁশিয়ারি এবং পুনরায় লড়াইয়ের ডাক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মেরুকরণ তৈরি করে। তবে কালীঘাটের এই সাংবাদিক বৈঠক যে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকনির্দেশ করে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





