উত্তরপাড়ায় ‘মীনাক্ষী-ম্যাজিক’ ব্যর্থ! বামের ভোট কি সত্যিই রামে? ফল হারতেই বিস্ফোরক যুবনেত্রী!

বিধানসভা নির্বাচনে উত্তাপের কেন্দ্রে ছিল উত্তরপাড়া কেন্দ্র। লড়াই ছিল দীর্ঘদিনের বাম আন্দোলনের পরিচিত মুখ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বনাম বিজেপির প্রার্থী, প্রাক্তন সেনাকর্মী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর। প্রথম রাউন্ডে কিছুটা আশার আলো দেখালেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হতে থাকে লাল ঝাণ্ডার তেজ। শেষ পর্যন্ত ১০,৪১৫ ভোটে জয়ী হয়ে উত্তরপাড়ার নতুন বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পদ্ম শিবিরের দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ৩০,৭৯২ ভোটে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন মীনাক্ষী।

সোমবার শ্রীরামপুরের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও মীনাক্ষীর গলায় শোনা গেল রাজ্য রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ। তিনি বলেন, “মানুষ বর্তমান অপশাসনের হাত থেকে বাঁচতে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশের অন্য রাজ্যে যেভাবে সরকার চালায়, তাতে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন।” তবে কেবল আতঙ্কিত হয়ে ঘরে বসে থাকতে রাজি নন এই বাম নেত্রী। তাঁর সাফ বার্তা, “আমরা রাস্তায় ছিলাম এবং থাকব। সাধারণ মানুষের প্রতিটি লড়াইয়ে আমাদের পাওয়া যাবে।”

নির্বাচনী ফলের পর রাজনৈতিক মহলে চাউর হয়েছে যে, ‘বামের ভোট রামে’ যাওয়ার ফলেই উত্তরপাড়ায় বিজেপির জয় সহজ হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক মেজাজে মীনাক্ষী বলেন, “এমন কোনো ইভিএম আছে নাকি যেখানে কোনটা বামের ভোট আর কোনটা রামের ভোট তা বোঝা যায়? আগে সেই ইভিএম দেখানো হোক, তারপর কথা বলব।”

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা ‘শূন্য’ হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার ডোমকল থেকে সিপিআইএম প্রার্থী মহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এবং ভাঙড় থেকে নওশাদ সিদ্দিকীর জয় বাম শিবিরকে নতুন অক্সিজেন দিয়েছে। যদিও মীনাক্ষীর দাবি, “সিপিআইএম-এর খাতা কোনোদিন বন্ধ হয়নি। আমরা নীতি পরিবর্তনের লড়াই করি। ২০২১-এ বিধায়ক না থাকলেও আমরা ময়দান ছাড়িনি।” তাঁর মতে, মানুষ স্বৈরাচার, বেকারত্ব এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। যদি নতুন সরকারের জমানায় বাংলায় হিংসা বা অপসংস্কৃতি ফিরে আসে, তবে তার জবাবদিহি শাসক দলকেই করতে হবে বলে হুঙ্কার দেন তিনি।