বাংলার মসনদে এবার পরিবর্তনের হাওয়া। নীল-সাদা সরিয়ে গৈরিক আভায় সেজেছে নবান্ন। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে টলিউডের স্টুডিও পাড়াতেও। গত দেড় দশকে টলিপাড়ায় যে ‘থ্রেট কালচার’, ‘ব্যান কালচার’ আর রাজনৈতিক দাদাগিরির অভিযোগ বারবার উঠেছে, নতুন সরকারের আগমনে তার থেকে কি মুক্তি পাবে ইন্ডাস্ট্রি? সোমবারের ফলাফলের পর এখন টলিউডের অন্দরে একটাই প্রশ্ন— ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স-এর মাথায় এবার কে? স্বরূপ বিশ্বাসের সাম্রাজ্যের পতনের পর কে ধরবেন হাল?
টলিউডের শিল্পীদের একটা বড় অংশই এখন পরিবর্তনের আশায় বুক বাঁধছেন। অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য যেমন স্পষ্টই জানালেন, “আগের আমলে যেটা হয়েছিল যে দলের ঝান্ডা ধরলে কাজ মিলবে, না ধরলে নয়— সেটা যেন এই সরকারের সময়ে না হয়। বাম জমানাতেও কিন্তু নেতারা ইন্ডাস্ট্রিতে নাক গলাতেন না।” তাঁর দাবি, নতুন সরকার যেন ফেডারেশনের দায়িত্ব এমন কাউকে দেয় যিনি ইন্ডাস্ট্রি বোঝেন। তাঁর পছন্দের নাম রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ‘আর্টিস্ট ফোরাম’ তৈরিতে রূপার যে অবদান, তাতে তিনিই পারেন ফেডারেশনের স্বচ্ছতা ফেরাতে।
অভিনেতা অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় তো সরাসরি তোপ দাগলেন ফেডারেশনের প্রাক্তন কর্তাদের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, “পার্টি ক্যাডার না হলে কার্ড পাওয়া যেত না। কম বাজেটে ছবি করা অসম্ভব করে তোলা হয়েছিল। যোগ্য অভিনেতাদের বয়কট করা হত অরূপ বিশ্বাসের অফিস থেকে।” তিনি আশাবাদী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় দায়িত্বে এলে এই অরাজকতা বন্ধ হবে। অভিনেতা জ্যাক থেকে শুরু করে শ্রীলেখা মিত্র— প্রত্যেকেরই এক দাবি, ইন্ডাস্ট্রি রাজনীতি মুক্ত হোক। শ্রীলেখা মিত্রের হুঁশিয়ারি, “আগে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি চাই না। তবে বিজেপি এসেছে বলে যেন ধর্মের নিরিখে কাজ না দেওয়া হয়। কাজের যোগ্যতায় সবাই যেন সুযোগ পায়।”
বিজেপি সমর্থক অভিনেতা ঋষি কৌশিক এই জয়কে ‘প্রত্যাশিত’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, “বাঙালির রাজনীতি ছাড়া ভাত হজম হয় না জানি, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি যেন আগের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।” অন্যদিকে, টেকনিশিয়ানদের দাবি আরও জোরালো। প্রখ্যাত সাউন্ড রেকর্ডিস্ট শম্ভু দাসের কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতেও পদ্মফুল ফুটুক। আমাদের স্বাস্থ্য বীমা নেই, পারিশ্রমিক বাড়ে না। বড় রোগ হলে না খেয়ে মরতে হবে। এবার যেন সেই পরিস্থিতি বদলায়।” রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতার বদলে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর মতো সৃজনশীল অভিভাবক চাই টলিউডের। এখন দেখার, নতুন সরকারের জমানায় টলিউড কি সত্যিই ‘থ্রেট কালচার’ মুক্ত হবে?





