নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট-এ বসেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ইভেন্ট ‘মেট গালা ২০২৬’-এর আসর। প্রতি বছরের মতো এবারও রেড কার্পেটে হলিউড ও বলিউডের তাবড় তারকাদের ভিড়। কিন্তু সমস্ত আলোকবৃত্ত কেড়ে নিলেন রিলায়েন্স কন্যা ইশা আম্বানি। গত কয়েক বছর ধরে মেট গালায় অংশ নিলেও, এবারের রাজকীয় সাজে তিনি বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছেন। সোনালি টিস্যু সিল্কের শাড়ি, হাতে বিশেষ ‘ম্যাঙ্গো পার্স’ আর মেঝে ছোঁয়ানো গজরার যুগলবন্দীতে ইশা যেন এক আধুনিক ভারতীয় রাজকন্যা।
ইশা আম্বানির এবারের লুকটি ডিজাইন করেছেন প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার গৌরব গুপ্ত। তাঁর পরনে ছিল একটি সোনালি টিস্যু সিল্কের শাড়ি, যা তৈরি করতে ৫০ জন কারিগরের প্রায় ১,২০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই শাড়ির পাড়টি জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী ‘স্বদেশ’ শিল্পীদের হাতে আঁকা এবং অজন্তার ফ্রেস্কো থেকে অনুপ্রাণিত। শাড়ির ওপর রেজিন দিয়ে তৈরি একটি ভাস্কর্যসদৃশ কেপ তাঁর লুককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
তবে ইশার সাজের সবচেয়ে দামি এবং আকর্ষণীয় অংশ ছিল তাঁর রত্নখচিত ব্লাউজটি। এটি তৈরি করা হয়েছে নীতা আম্বানির ব্যক্তিগত সংগ্রহের অত্যন্ত মূল্যবান ও ঐতিহ্যবাহী রত্নপাথর দিয়ে। ব্লাউজটিতে ১,৮০০ ক্যারেটেরও বেশি হীরা, পান্না, পোলকি এবং কুন্দন ব্যবহার করা হয়েছে। গয়নার ক্ষেত্রেও ইশা আভিজাত্যের পরিচয় দিয়েছেন। গলায় ছিল ২৫০ ক্যারেটের ওল্ড মাইন-কাট হীরা ও পান্নার নেকলেস এবং কানে মানানসই হীরার দুল।
পোশাকের পাশাপাশি ইশার হেয়ারস্টাইল ও অ্যাক্সেসরিজ ছিল আলোচনার তুঙ্গে। তাঁর চুলে লাগানো সাদা ফুল বা গজরাটি সাধারণ কোনো মালা ছিল না। তামা, পিতল ও কাগজ দিয়ে তৈরি এই কৃত্রিম গজরাটি তৈরিতে সময় লেগেছে ১৫০ ঘণ্টা। এটি এতটাই দীর্ঘ ছিল যে তা মেঝে স্পর্শ করছিল। এছাড়া তাঁর হাতে থাকা আম-আকৃতির ইউনিক পার্সটি ছিল প্রখ্যাত শিল্পী সুবোধ গুপ্তের অমর সৃষ্টি। সব মিলিয়ে মেট গালার মঞ্চে পাশ্চাত্য ফ্যাশনের ভিড়ে ভারতীয় ঐতিহ্যকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিলেন ইশা আম্বানি।





