বিজেপি এজেন্টের ঘরবাড়ি তছনছ, আক্রান্ত সপরিবার! ভোট পরবর্তী হিংসার আগুনে জ্বলছে বেহালা থেকে যাদবপুর

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে না হতেই ফের শিরোনামে খাস কলকাতা। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা থেকে শুরু করে যাদবপুরের পঞ্চসায়র—ভোট পরবর্তী হিংসার গ্রাসে একের পর এক এলাকা। কোথাও আক্রান্ত আরএসএস (RSS) কর্মী, কোথাও আবার খোদ শাসকদলের কাউন্সিলরের স্বামীর মাথা ফাটার অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে শহরজুড়ে।
বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। আরএসএস-এর অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের দুই কর্মী অভিজিৎ ব্রহ্ম ও প্রসেনজিৎ ব্রহ্মের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে অভিজিৎবাবুর মাথা ফেটে যায়। আরএসএস-এর আরও অভিযোগ, জখম অবস্থায় থানায় গেলে পুলিশ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বদলে উল্টে আক্রান্তদেরই গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, পর্ণশ্রীতেই পাল্টাও অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় ইভিএম (EVM) লুঠের প্রতিবাদ করায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। এই হামলায় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাসের মাথা ফেটে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় এক তৃণমূল কর্মীকে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে ভর্তি করা হয়েছে। পর্ণশ্রী থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে শাসকদলও।
এদিকে, যাদবপুর বিধানসভার অন্তর্গত পঞ্চসায়রের ১৫৩ নম্বর বুথ এলাকায় রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। বিজেপির অভিযোগ, প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল বিজেপি এজেন্ট শান্তনু সরকারের নির্মাণ সংস্থার অফিসে হামলা চালায়। ভেঙে দেওয়া হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও শান্তনুবাবুর ব্যক্তিগত গাড়ি। অভিযোগ, শান্তনুবাবুর স্ত্রীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাশের বিজেপি কর্মী প্রশান্ত ঘোষের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে সংলগ্ন একটি তৃতীয় বাড়ির সিসিটিভি-ও চুরমার করে দেয়। যদিও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ভোট মিটলেও শহরের এই অশান্তি নতুন করে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।