দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। মানুষের রায়ের প্রতিফলন ঠিক কী হতে চলেছে, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল সামনে আসতেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোনো সংস্থা বলছে পরিবর্তন নিশ্চিত, আবার কারোর দাবি দিদির ওপরেই আস্থা রাখছে বাংলা। সব মিলিয়ে ২৯৪ আসনের লড়াইয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ছোঁয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক দড়িটানাটানি।
বড় তফাৎ বিভিন্ন সমীক্ষায়: এক নজরে পরিসংখ্যান
সমীক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যে ধরা পড়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে যেমন বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার দাবিও জোরালো।
P-MARQ-এর সমীক্ষা: এই সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান হতে চলেছে। বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। সেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে থাকতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন।
পিপলস পালসের অনুমান: এই সংস্থার হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছেন। তৃণমূল পেতে পারে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি ৯৫ থেকে ১১০টি আসনে আটকে যেতে পারে।
ম্যাট্রিজ ও চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস: এই দুই সংস্থাই বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রেখেছে। ম্যাট্রিজের মতে বিজেপি ১৪৬-১৬১ এবং চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের মতে বিজেপি ১৫০-১৬০টি আসন পেতে পারে। দুই সংস্থার হিসেবেই তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে।
‘Poll Of Exit Polls’ কী বলছে?
বিভিন্ন সমীক্ষার গড় বা ‘পোল অফ এক্সিট পোলস’ অনুযায়ী লড়াই একেবারেই সেয়ানে-সেয়ানে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, তৃণমূল সামান্য এগিয়ে থেকে ১৪৭টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপির ঝুলিতে আসতে পারে ১৩৭টি আসন। বাম ও কংগ্রেসের অবস্থা কার্যত শোচনীয়; উভয় পক্ষই মাত্র ২টিকরে আসন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪ মে-র দিকে তাকিয়ে বাংলা
বুথফেরত সমীক্ষা মানেই কিন্তু চূড়ান্ত ফল নয়। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, এক্সিট পোলের অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে জনতা জনার্দন সম্পূর্ণ ভিন্ন রায় দিয়েছে। বিজেপি কি পারবে বাংলার মসনদ দখল করতে? নাকি ‘ঘরের মেয়ে’র ওপরই ভরসা রাখবে বাংলা?
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই টানটান উত্তেজনা যে বজায় থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





