একটা ভোট মেটার আগেই পরের লক্ষ্য স্থির! ২০২৭-এর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ময়দানে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীনই আগামী বছরের নির্বাচনী রণকৌশল সাজিয়ে ফেলল ভারতীয় জনতা পার্টি। চার রাজ্য ও পুদুচেরির বিধানসভা ভোট মিটতে না মিটতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন থেকেই ২০২৭ সালের ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সাফ জানিয়েছেন, আগামী বছর যে সাতটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেখানে এখনই কোমর বেঁধে নেমেছে দল। তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের মতো হেভিওয়েট রাজ্যও।

বিজেপির নীতি স্পষ্ট—একটি নির্বাচন শেষ হওয়া মানেই পরবর্তী লড়াইয়ের প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই নীতিন নবীন ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট সফর সেরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। আগামী সপ্তাহে তাঁর উত্তরাখণ্ড যাওয়ার কথা। বিরোধী দলগুলি যখন ভোটের ঠিক আগে রণকৌশল ঠিক করে, বিজেপি তখন সারা বছরই সাংগঠনিক সক্রিয়তা বজায় রাখে।

এদিকে ৪ মে কেরালা-সহ বাকি রাজ্যগুলির ফল ঘোষণা। তার আগেই বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, অসম ও পুদুচেরিতে তারা ক্ষমতা ধরে রাখবে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার গড়বে। বিশেষ করে কেরালা নিয়ে এবার বড়সড় সাফল্যের আশায় রয়েছে পদ্মশিবির।

অন্যদিকে, গুজরাটের স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি কার্যত বিরোধীদের ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে। রাজ্যের ১৫টি কর্পোরেশনেই ক্ষমতা দখল করেছে তারা। আহমেদাবাদের ১৯২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬১টি জিতেছে বিজেপি। পোরবন্দর ও মোরবি পুরসভার ৫২টি আসনের সবকটিই জিতে রেকর্ড গড়েছে দল। সুরাটে গতবার নজর কাড়া আম আদমি পার্টি (আপ) এবার মাত্র ৪টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ১২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১৪টিই জিতেছে বিজেপি। গ্রামীণ এলাকাতেও দাপট দেখিয়েছে পদ্মশিবির; ১০৯০টি জেলা পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ৭৮২টিই এখন তাদের দখলে। ৩৩টি জেলা পঞ্চায়েতে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও নর্মদা জেলা পঞ্চায়েতটি পেয়েছে আপ। কংগ্রেসের ঝুলি কার্যত শূন্য। এই জয়কে সামনে রেখেই ২০২৭-এর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে বিজেপি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy