একই দিনে জন্ম নয় রাম-লক্ষ্মণের! কেন এত রাগী ছিলেন সুমিত্রা নন্দন? ফাঁস হলো পৌরাণিক রহস্য

রামায়ণের কাহিনীতে ভগবান রামের শান্ত ও ধৈর্যশীল স্বভাবের বিপরীতে সবসময়ই লক্ষ্মণের প্রচণ্ড ক্রোধ ও উগ্র মেজাজের কথা উঠে আসে। সাধারণ মানুষের ধারণা, দশরথের চার পুত্র একই সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রখ্যাত কথক জগদ্গুরু হরিপ্রপন্নচার্য মহারাজ এক বিশেষ রহস্য উন্মোচন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাম, ভরত, লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন—এই চার ভাইয়ের জন্ম নক্ষত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, আর সেই কারণেই তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও ছিল ভিন্ন।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভগবান শ্রীরাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন কর্কট লগ্নে, মঙ্গলবার। এই গ্রহবিন্যাস তাঁকে শান্ত, গম্ভীর এবং অত্যন্ত সংযত স্বভাবের অধিকারী করেছিল। অন্যদিকে, ভরত দ্বিতীয় দিনে মীন লগ্নে এবং পুষ্য নক্ষত্রের অধীনে জন্মগ্রহণ করেন, যা তাঁর মধ্যে ত্যাগ ও একনিষ্ঠ ভক্তির জন্ম দেয়। কিন্তু লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্নর জন্ম হয় তৃতীয় দিনে, অশ্লেষা নক্ষত্রের প্রভাবে।

কেন এত ক্রোধ লক্ষ্মণের?
জ্যোতিষ শাস্ত্রে ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে ‘অশ্লেষা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নক্ষত্রের প্রতীক হলো সর্প এবং এর অধিপতি বুধ। মনে করা হয়, অশ্লেষা নক্ষত্রে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা স্বভাবগতভাবেই কিছুটা আক্রমণাত্মক, জেদি এবং খিটখিটে মেজাজের হন। লক্ষ্মণের চরিত্রের সেই প্রচণ্ড তেজ এবং হঠাৎ রেগে যাওয়ার প্রবণতা আসলে এই নক্ষত্রেরই প্রভাব। তবে তাঁর এই ক্রোধ ছিল কেবল ধর্ম রক্ষা ও শ্রীরামের সম্মানের জন্য।

এর প্রমাণ পাওয়া যায় পরশুরাম ও লক্ষ্মণের সেই বিখ্যাত তর্কে। সীতার স্বয়ংবরে শিবধনু ভাঙার পর পরশুরাম যখন ক্রুদ্ধ হয়ে সভাকক্ষে উপস্থিত হন, তখন লক্ষ্মণ চুপ থাকেননি। পরশুরামের দম্ভের জবাবে তিনি নির্ভীকভাবে বলেছিলেন, “প্রকৃত ক্ষত্রিয় অপমান সহ্য করে না।” শৈশবে অনেক ধনুক ভাঙার উদাহরণ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, অন্যায়ের মুখে চুপ থাকা কাপুরুষতা। কর্কট রাশির অন্তর্গত এই অশ্লেষা নক্ষত্রই লক্ষ্মণকে রহস্যময় কিন্তু আদর্শের প্রতি অবিচল এক যোদ্ধায় পরিণত করেছিল।