পিচাইকে হুঁশিয়ারি ৬০০ কর্মীর! পেন্টাগনের সঙ্গে গুগলের ‘গোপন’ এআই চুক্তি নিয়ে চরম বিদ্রোহ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে গুগল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে কোম্পানির এআই অংশীদারিত্ব নিয়ে গুগলের অভ্যন্তরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্রোহ। সিইও সুন্দর পিচাইকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৬০০-র বেশি কর্মী। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সামরিক ক্ষেত্রে গুগলের এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কর্মীদের আশঙ্কা, জেমিনি এআই-এর মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি যদি যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহৃত হয়, তবে তা মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গোপনীয় পরিবেশে জেমিনি এআই মোতায়েন করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এই খবর সামনে আসতেই গুগলের ‘ডিপমাইন্ড’ দলের গবেষক ও কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। কর্মীদের যুক্তি, এআই তৈরি করা হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য, কোনো স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরি বা নজরদারি চালানোর জন্য নয়।
এই বিতর্ক গুগলের পুরনো প্রতিশ্রুতির গায়েও কুঠারাঘাত করছে। ২০১৮ সালে গুগল ঘটা করে ঘোষণা করেছিল যে, তাদের এআই প্রযুক্তি অস্ত্র বা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হবে না। এখন কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান কৌশল সেই নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। চিঠিতে কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনেক সময় কর্মীরা জানতেও পারেন না যে তাঁদের তৈরি প্রযুক্তি কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অনৈতিক এবং বিপজ্জনক।
তবে কেবল গুগল নয়, সামরিক ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বই এখন দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআই-এর মতো সংস্থাগুলো প্রতিরক্ষা খাতে হাত মিলিয়েছে, অন্যদিকে ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর মতো সংস্থা সামরিক ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। গুগলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত আবারও প্রমাণ করল যে, এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর লাগাম কার হাতে থাকবে—সেই যুদ্ধ ততটাই জটিল হয়ে উঠছে।