মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভালিতে এক অনাথ তরুণীর ওপর ঘটে যাওয়া পৈশাচিক বর্বরতা ফের একবার নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। সহায়-সম্বলহীন এক তরুণীকে সাহায্যের নাম করে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের খবর সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবকের নাম কৃষ ভৈর।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ওই অনাথ তরুণীর ওপর হামলা চালায় তাঁর এক বন্ধুর পরিবারের সদস্যরা। বন্ধুর বাবা ও আত্মীয়দের হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হয়ে ওই তরুণী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অভিভাবকহীন ওই তরুণী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ স্টেশনে যেতে চাইলেও তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। এই অসহায়তার সুযোগ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ‘স্ন্যাপচ্যাট’-এর মাধ্যমে কৃষ ভৈরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কয়েকদিনের আলাপেই কৃষকে বিশ্বাস করে ফেলেন তরুণী।
অভিযোগ, কৃষ তাঁকে মানপাড়া পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের গাড়িতে তোলে। কিন্তু স্টেশনে যাওয়ার পরিবর্তে সে গাড়ি ঘুরিয়ে একটি অন্ধকার নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তরুণীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে কৃষ। বর্বরতা এখানেই শেষ হয়নি; অভিযুক্ত ওই তরুণীর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং প্রমাণের অভাবে সিম কার্ডটি ফেলে দিয়ে তাঁকে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
অবশেষে সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে ওই তরুণী শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিধায়ক রাজেশ মোরের নির্দেশে শিবসেনা মহিলা আগাড়ির কর্মীরা তাঁকে দ্রুত থানায় নিয়ে যান। পুলিশ আধিকারিক সম্পত ফাদোল এবং প্রিয়াঙ্কা সাদালকারের নেতৃত্বে এক ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে অভিযুক্ত কৃষ ভৈরকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ব্যক্তি আগেও এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিবসেনা নেতা কিরণ মন্ডকর।





