তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা টলিউডকে। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবার নিরাপত্তার এক নতুন বর্ম গড়ছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। সোমবার ইম্পার (IMPA) অফিসে অভিনেতা ও প্রযোজকদের মধ্যে এক ম্যারাথন বৈঠকের পর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এখন থেকে প্রতিটি ছবির জন্য ১০০ শতাংশ বিমা (Insurance) বাধ্যতামূলক। আগে বিমা হবে, তারপরই ফ্লোরে গড়াবে ছবির চাকা।
কড়া SOP ও বিমার সুরক্ষা:
বৈঠকে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, টলিউডে এবার থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা SOP মেনে কাজ হবে। আগে বিমা নিয়ে কোনও লিখিত কড়াকড়ি না থাকলেও, রাহুলের মৃত্যুর পর সেই গাফিলতি আর মেনে নিতে নারাজ আর্টিস্টস ফোরাম। বিমার পরিমাণ নির্ভর করবে ছবির বাজেটের উপর। ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ও আর্টিস্টস ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই নিয়মে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
রাহুলকে উৎসর্গ করা বৈঠক:
এদিনের বৈঠকটি প্রয়াত অভিনেতা রাহুলের স্মৃতিতে উৎসর্গ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “রাহুলের চলে যাওয়া কাম্য নয়, কিন্তু ওর মৃত্যু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আজ আমরা সবাই একজায়গায় আসতে পেরেছি।” অভিনেতা তথা প্রযোজক যিশু সেনগুপ্তও সুর মিলিয়ে বলেন, “আমরা বাড়িতে যেটুকু সময় কাটাই, তার চেয়ে বেশি কাটাই শুটিং ফ্লোরে। আমরা সবাই একটা পরিবার। রাহুল আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেছে যে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।”
বয়কট ও আগামী পদক্ষেপ:
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যে প্রযোজনা সংস্থার চরম গাফিলতির কারণে রাহুলের এই ভয়াল পরিণতি হয়েছে, তাদের সঙ্গে আপাতত টলিপাড়ার কেউ কাজ করবেন না। শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এসওপি-র প্রস্তাবের ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজকরা সহমত হয়েছেন। বাকি সামান্য কিছু টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে ফের আলোচনার পর চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
এদিনের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক রানা সরকার, ফিরদৌসুল হাসান, অভিষেক দাগা এবং ফোরামের পক্ষ থেকে বিদীপ্তা চক্রবর্তী ও রানা মিত্র। ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগ দেন শ্রীকান্ত মোহতা। সব পক্ষই একমত যে, আলোচনার মাধ্যমেই টলিউডকে নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে পরিণত করা সম্ভব।





