নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে ব্যারাকপুরের মাটি থেকে সরাসরি কলকাতার ‘ঐতিহ্য’ নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো প্রতিশ্রুতি ‘কলকাতাকে লন্ডন বানানো’ নিয়ে তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দিয়ে মোদী বলেন, “যারা কলকাতাকে লন্ডন বানাতে চেয়েছিল, তারা আসলে তিলোত্তমার নিজস্ব ঐতিহ্যই নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য কলকাতাকে বিদেশের আদলে সাজানো নয়, বরং কলকাতাকে তার হারানো আভিজাত্য ফিরিয়ে দিয়ে আসল কলকাতা হিসেবেই গড়ে তোলা।”
ঐতিহ্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার কলকাতার শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে পরিকল্পনাহীন নগরায়ন আর অবহেলার কারণে কলকাতার প্রাচীন স্থাপত্য এবং বনেদিয়ানা ধুঁকছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়:
কলকাতা থাকবে নিজের মেজাজেই: বিজেপির সরকার ক্ষমতায় এলে কলকাতাকে একটি আধুনিক বিশ্বমানের শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে ঠিকই, কিন্তু তার হেরিটেজ বা ঐতিহ্যের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে।
উন্নয়নের নতুন মডেল: লন্ডনের মতো কৃত্রিম চাকচিক্য নয়, বরং কলকাতার পরিবেশ, রাস্তাঘাট ও গঙ্গার ধারের সংস্কার করে তাকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
“লন্ডন বানাতে গিয়ে ঐতিহ্য ধ্বংস হয়েছে”
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মোদী বলেন, “লন্ডন বানানোর নাম করে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, তার সঠিক ব্যবহার হলে আজ কলকাতার রূপ অন্যরকম হতো। অথচ আজ প্রতিটি মোড়ে কেবল নীল-সাদা রঙ আর বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি, মূল উন্নয়ন কোথায়?” তিনি সাফ জানান, ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে শহরবাসীর প্রাণের কলকাতার ধুলো ঝেড়ে তাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে।
৪ মে-র পর নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত
এদিনের সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর তিনি আবারও বাংলায় আসবেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, সেই সফর হবে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ এবং বাংলার পুনর্গঠনের লক্ষ্যে। ব্যারাকপুরের ভিড় দেখে মোদীর দাবি, বাংলার মানুষ এবার ‘লন্ডনের মিথ্যে স্বপ্ন’ সরিয়ে ‘আসল উন্নয়নের’ পক্ষে রায় দিতে তৈরি।





