লোকসভা নির্বাচনের আবহে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল। ভরসন্ধ্যায় এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য এবং গুলি-কাণ্ডের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাফ দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোট চাইলে অবিলম্বে এলাকার চিহ্নিত গুন্ডাদের শ্রীঘরে পাঠাতে হবে।
সুকান্ত মজুমদারের কড়া আক্রমণ
জগদ্দলের পরিস্থিতি নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ভোটের দিন ঘনিয়ে আসতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সাধারণ মানুষ যাতে বুথমুখী না হতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই গুলি-কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” কমিশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোনো গুন্ডা যেন জেলের বাইরে ঘুরে বেড়াতে না পারে। পুলিশ যদি সক্রিয় না হয়, তবে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
কী ঘটেছিল জগদ্দলে?
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত রাতে জগদ্দলের নির্দিষ্ট একটি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা পরবর্তীতে গুলি চালানো পর্যন্ত গড়ায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশের দাবি, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অশান্তি বাধানো হচ্ছে।
কমিশনের কাছে বিজেপির ৩টি মূল দাবি:
চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতার: এলাকায় যত পুরনো সমাজবিরোধী এবং ওয়ারেন্ট থাকা অপরাধী আছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
রুট মার্চ বৃদ্ধি: শুধু বড় রাস্তা নয়, ভেতরের গলিগুলোতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং রুট মার্চ বাড়াতে হবে।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা রোধ: যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশনকে বিভাগীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোটের আগে জগদ্দল ও সংলগ্ন ভাটপাড়া এলাকা সবসময়ই স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত। সেখানে সুকান্ত মজুমদারের এই সরব হওয়া এবং কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করা— রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত খুঁজছে।





