ভোটের ঠিক আগে বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে কড়া অবস্থান নিলেও, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে নজর দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক মিছিল বা দল বেঁধে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে— ‘ব্যক্তিগত প্রয়োজনে হাওয়া খেতে যাওয়া বা কাজ বেরোনোয় কোনো বাধা নেই।’
কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড়?
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ভোটার বা নাগরিকরা যদি কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া রাস্তায় বেরোন, তবে তাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে না। বিশেষ করে:
হাওয়া খেতে যাওয়া: বিকেলে বা রাতে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বেরোলে পুলিশি হেনস্থার ভয় নেই।
পারিবারিক যাতায়াত: পরিবার নিয়ে বাজারে যাওয়া, আত্মীয়র বাড়ি বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কাজে বাইক ব্যবহারে বাধা নেই।
জরুরি পরিষেবা ও কর্মক্ষেত্র: ডাক্তার, নার্স, সাংবাদিক বা অফিস যাত্রীদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখালেই যাতায়াত মসৃণ হবে।
কড়া নজরদারি কোথায়?
আদালতের মূল লক্ষ্য হলো ‘রাজনৈতিক বাইক বাহিনী’। ৩ বা তার বেশি বাইক একসাথে থাকলেই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পড়বে। বিশেষ করে যদি আরোহীদের গতিবিধি সন্দেহজনক হয় বা তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, তবেই পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশিকা:
১. রাস্তায় চলাচলের সময় হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় নথি (ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স) সাথে রাখুন। ২. পুলিশ তল্লাশি করলে সহযোগিতা করুন এবং আপনার গন্তব্য পরিষ্কার জানান। ৩. অপ্রয়োজনে একসাথে অনেকগুলো বাইক নিয়ে রাস্তায় জটলা না করাই শ্রেয়।
হাইকোর্টের এই রায়ে স্পষ্ট যে, নির্বাচনের ডিউটি বা নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো সাধারণ নাগরিক যাতে পুলিশের দ্বারা অহেতুক হেনস্থার শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, আপনি যদি সাধারণ বাইক আরোহী হন এবং আপনার উদ্দেশ্য সৎ হয়, তবে ভোটের সময়ও আপনার ‘হাওয়া খেতে যাওয়া’ আটকাবে না কেউ।





