বাংলায় ভোট মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাইক র্যালি এবং একাধিক বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিষেধাজ্ঞায় বড়সড় রদবদল করল আদালত। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নিয়ম রক্ষার নামে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।
সম্প্রতি বাইক র্যালি এবং একসঙ্গে একাধিক বাইক চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। এদিনের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “একজন সাধারণ নাগরিকের অধিকার কি আপনারা এভাবে খর্ব করতে পারেন? বাইকের ক্ষেত্রে যা নিয়ম, সেই একই বিধিনিষেধ চারচাকার গাড়ির ক্ষেত্রে কেন প্রযোজ্য হবে না?”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য রাজ্যের নির্বাচনী উদাহরণ টেনে কমিশনকে কোণঠাসা করে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “বিহার বা অসমেও কি নির্বাচনের সময় একই ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল? যদি সেখানে এমন নজির থাকে, তবেই আমরা এখানে অনুমতি দেব।” আদালতের এই প্রশ্ন সরাসরি কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নিয়ম তৈরির যৌক্তিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বাইক-বাহিনী রুখতে এই কড়াকড়ি প্রয়োজন। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধ রুখতে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ করা যায় না। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে কিছুটা রদবদল এনে ডিভিশন বেঞ্চের এই অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ভোটের প্রচারে বাইক র্যালি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই রায়ের ফলে এখন থেকে বাইক চলাচলে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আর থাকছে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





