‘এবার বাংলাতেও ডাবল ইঞ্জিন!’ জগদ্দলে জনপ্লাবন দেখে পরিবর্তনের ডাক মোদীর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনসভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে গদগদ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বলেন, “বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য তৈরি।” জগদ্দলের এই সভা থেকে মোদী বুঝিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে বাংলা দখল করতে কোনো খামতি রাখবে না বিজেপি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থা রাজ্যের উন্নয়নের গতি স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাংলায় ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। দেশের অন্যান্য রাজ্য যে গতিতে এগোচ্ছে, বাংলা সেখানে পিছিয়ে রয়েছে।” এর সমাধান হিসেবে তিনি আবারও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের তত্ত্ব তুলে ধরেন। মোদীর দাবি, দিল্লি ও নবান্নে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছাবে।

এদিন মোদীর নিশানায় ছিল দুর্নীতি ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি। জগদ্দলের জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় বিনিয়োগের পরিবেশ নেই বললেই চলে। সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির কারণে নতুন শিল্প আসছে না, যার ফলে রাজ্যের যুবসমাজ কর্মসংস্থানের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিতে পারে একমাত্র বিজেপি-র নতুন নীতি।”

এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি বিজেপি কর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা তৈরি করে। গোটা চত্বর ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জগদ্দলের এই মেগা শো শুধুমাত্র ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য নয়, বরং নিচুতলার কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে তুলতেই এই রণকৌশল সাজিয়েছে গেরুয়া শিবির।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে শাসক দলের দাবি, মোদী বাংলায় এসে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ভোটমুখী বাংলায় জগদ্দলের এই সমাবেশ যে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy