“‘আমিষ’ ভোগের মন্দিরে মোদী!”-ঠনঠনিয়ার ইতিহাস ছুঁয়ে মমতার অভিযোগ ওড়ালেন মোদী?

বাংলার ভোটের শেষ লগ্নে লড়াই এবার রান্নাঘর বনাম রাজনীতির। “বিজেপি এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে”—তৃণমূলের এই লাগাতার প্রচারের মুখে দাঁড়িয়ে বড় চাল চাললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার উত্তর কলকাতায় রোড শো-র আগে তিনি পুজো দিলেন ঐতিহাসিক ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে। যে মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমিষ ভোগের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।

আমিষ ভোগের মন্দিরে মোদী: ১৭০৩ সালে স্থাপিত উত্তর কলকাতার এই জাগ্রত সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের মাহাত্ম্যই আলাদা। কথিত আছে, খোদ রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এখানে মা কালীকে ‘ডাব চিংড়ি’ নিবেদন করেছিলেন। আজও এখানে দেবীকে ঘাতা করে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি মন্দিরে মোদীর পুজো দেওয়া আসলে তৃণমূলের ‘খাদ্যাভ্যাস’ নিয়ে করা আক্রমণের এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী জবাব।

মতুয়া গড় থেকে ঠনঠনিয়া— মোদীর মাস্টারস্ট্রোক: প্রধানমন্ত্রীর রবিবারের কর্মসূচিতে ছিল সূক্ষ্ম রাজনৈতিক অঙ্ক:

  • মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক: ঠনঠনিয়া যাওয়ার আগে তিনি গিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে। ৫০টিরও বেশি আসনে মতুয়াদের প্রভাব থাকায় এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  • সাংস্কৃতিক যোগ: এরপর কলকাতার ‘আত্মা’ হিসেবে পরিচিত ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন তিনি।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সংঘাত: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে, এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলোর মতো বাংলাতেও বিজেপি মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে। বিহার বা গুজরাটের উদাহরণ টেনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিজেপি এলে মাছ-মাংসের ওপর কোপ পড়বে।

বিজেপির পাল্টা প্রতিরোধ: এই অভিযোগ খণ্ডন করতে ময়দানে নেমেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারাও।

  • সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারও খাদ্যাভ্যাসে নাক গলাবে না বিজেপি।

  • উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপি নেতা তেমজেন ইমনা আলং ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন তিনি বিজেপি করেও আমিষ খান।

  • এমনকি অনুরাগ ঠাকুরকেও বাংলায় এসে মাছ-ভাত খেতে দেখা গিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, যেখানে ‘মাছ-মাংস’ ইস্যু করে ভোটের হাওয়া ঘোরানোর চেষ্টা চলছে, সেখানে আমিষ ভোগের জন্য বিখ্যাত ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদীর প্রার্থনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিল না কি পুরনো বিতর্কে ইতি টানল— এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy