নির্বাচনী আবহে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী জনসভায় আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) পদক্ষেপ নিল জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন (NCSC)। অভিযোগ, গত ২৩ এপ্রিল চৌরঙ্গিতে তৃণমূল প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী ‘চামার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।
কমিশনের কড়া অবস্থান
নয়াদিল্লি থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কমিশনের দাবি:
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(এস) ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
জনসমক্ষে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার কেবল অসম্মানজনকই নয়, বরং আইনত দণ্ডনীয়।
রিপোর্ট চাইল দিল্লি, চাপে রাজ্য প্রশাসন
জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান কিশোর মাকওয়ানা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী দলিত বা তফসিলি জাতির মর্যাদা রক্ষা করা কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আগামী ৩ দিনের মধ্যে পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ইদানীং তফসিলি জাতির ওপর অত্যাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এহেন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
ভোটের বাজারে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে। এখন দেখার, নবান্নের পক্ষ থেকে এই নোটিসের জবাবে কী সাফাই দেওয়া হয়।
সংক্ষিপ্ত তথ্য: ভারতীয় দণ্ডবিধি ও বিশেষ আইন অনুযায়ী, জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ায় এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।





