২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই মহারণের মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটোয়ার জনসভা থেকে বিজেপিকে তুলোধনা করে অভিষেক সাফ জানালেন, “সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ কলকাতায় থেকে লড়াইটা দেখে যাবেন।”
অমিত শাহকে বিশেষ চ্যালেঞ্জ
রাজ্যের আসন্ন ফলাফল নিয়ে তৃণমূল যে কতটা আত্মবিশ্বাসী, তা এদিন অভিষেকের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন—
“আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, শরীর সুস্থ রাখুন আর জল বেশি করে খান। ৪ তারিখ ফলাফল বেরোনোর সময় যদি সৎ সাহস থাকে, তবে কলকাতায় থাকবেন। দিল্লির এসি ঘরে বসে বড় বড় কথা বলা সহজ, বাংলায় এসে লড়াই করাটা আলাদা।”
তৃণমূল কর্মীদেরও কড়া বার্তা
এদিন শুধু প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করাই নয়, নিজের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা মানুষের জন্য কাজ করবেন না, তাঁদের দলে কোনো জায়গা নেই। দলের ভাবমূর্তি বজায় রেখে মানুষের দুয়ারে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “তৃণমূল মানুষের দল, আর মানুষের আশীর্বাদেই আমরা আবার ফিরছি।”
“বাংলাকে ধমক দিয়ে লাভ নেই”
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে অভিষেক বলেন, দিল্লি থেকে এসে বাংলাকে ধমক-চমক দেওয়ার দিন শেষ। ইডি-সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে ভয় দেখানো যাবে না। বাংলার মানুষই ঠিক করবে তাঁদের ভাগ্যদাতা কে হবে। কাটোয়ার সভায় উপস্থিত ভিড় দেখে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপির পতন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
কেন ৪ তারিখ এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ তারিখ অর্থাৎ ফলাফল ঘোষণার দিনটিকে সামনে রেখে অভিষেক আসলে বিজেপির মনোবল ভাঙার কৌশল নিয়েছেন। অমিত শাহকে কলকাতায় থাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আদতে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বাংলার দখল নেওয়া বিজেপির পক্ষে অলীক স্বপ্ন।
কাটোয়ার এই সভা থেকে অভিষেকের এই মারমুখী মেজাজ এবং সরাসরি শাহকে আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।





