উত্তর কলকাতার অলিগলিতে আজ যেন অকাল উৎসবের আমেজ। রবিবার শেষবেলার নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকেই শহর কলকাতার চিরাচরিত মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের কড়া সুর সরিয়ে রেখে কখনও তাঁকে দেখা গেল ঝালমুড়ি খেতে খেতে জনসংযোগ করতে, কখনও বা গঙ্গার বুকে নৌকা বিহারে। তবে দিনের সেরা আকর্ষণ ছিল উত্তর কলকাতার সুপ্রাচীন ও জাগ্রত ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর পূজা অর্চনা।
গঙ্গার ঘাটে এক টুকরো অবসর
বিকেলে উত্তর কলকাতায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমে যান গঙ্গার ঘাটে। সেখানে স্থানীয় মাঝিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নৌকায় চেপে গঙ্গার স্নিগ্ধতা উপভোগ করেন। এই সফরের এক বিশেষ মুহূর্ত ছিল যখন প্রধানমন্ত্রীকে কলকাতার বিখ্যাত ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায়। মাটির ভাঁড়ে চা আর ঠোঙার ঝালমুড়িতে মোদীর এই ‘বাঙালি আনা’ দেখে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে ভক্তি নিবেদন
এরপর কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান বিধান সরণির ঐতিহাসিক ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।
পূজা ও আরতি: মন্দির চত্বরে প্রবেশের পর তিনি দেবী কালিকার চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের উপস্থিতিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করতেও দেখা যায় তাঁকে।
ছবিতে মুহূর্ত: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ভক্তিভরে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করছেন। গেরুয়া পাঞ্জাবি আর গলায় উত্তরীয় জড়ানো মোদীর এই ছবি এখন নেটপাড়ায় ট্রেন্ডিং।
উত্তর কলকাতার মানুষের উন্মাদনা
মন্দিরের বাইরে তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা অনুগামীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন তিনি। ঠনঠনিয়া থেকে বিবেকানন্দ রোড পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথে চলল পুষ্পবৃষ্টি। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “মোদীজি যে ভাবে আমাদের পাড়ার মন্দিরে এসে পুজো দিলেন, তা দেখে আমরা অভিভূত।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তর কলকাতার ভোটারদের মন জয় করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই ‘কালচারাল কানেক্ট’। একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে বাঙালির প্রিয় খাবার ও গঙ্গার ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে এক নিপুণ মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর এই কলকাতা সফরের একগুচ্ছ ছবি এখন সকলের নজর কেড়েছে। আধ্যাত্মিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে প্রধানমন্ত্রীর এই রবিবার যে অন্য মাত্রা পেল, তা বলাই বাহুল্য।





