সত্যি বললেই শাস্তি? মুন্সীগঞ্জে টিকা সংকটের দায়ে সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ‘ক্লোজ’ করার ঘোষণা মন্ত্রীর!

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ‘টিকা সংকট’ নিয়ে বিতর্ক এবার চরমে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে টিকা স্বল্পতা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার বা ‘ক্লোজ’ করার ঘোষণা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শুধু তাই নয়, মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বরখাস্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সফরে মন্ত্রীর মেজাজ হারানো

গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে জলাতঙ্ক রোগের টিকার (র‍্যাবিক্স-ভিসি) চরম সংকট নিয়ে রোগীদের অভিযোগের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ ওঠে, সরকারিভাবে বিনামূল্যে যে টিকা পাওয়ার কথা, তা রোগীদের চড়া দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির দায়ভার সরাসরি সিভিল সার্জন ও কর্মকর্তাদের ওপর চাপিয়ে মঞ্চ থেকেই তাঁদের শাস্তির ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

কেন এই শাস্তি?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, দেশে কোনো টিকার সংকট নেই। তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, সরকারের কাছে আগামী ছয় মাসের টিকার মজুত রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের ওই কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিকার বাস্তব স্বল্পতার কথা তুলে ধরেছিলেন। মন্ত্রীর মতে, এই ধরনের তথ্য ছড়ানো শৃঙ্খলাভঙ্গ।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কি অধস্তনদের ওপর?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার কেন্দ্রীয় সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যর্থতা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর চাপানো একটি ‘বাজে দৃষ্টান্ত’। জানা গেছে:

  • জেলা পর্যায় থেকে টিকার অভাবের কথা অনেক আগেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।

  • পর্যাপ্ত টিকা না পাঠিয়ে কর্তৃপক্ষ জেলা অফিসগুলোকে অন্য খাতের টাকা দিয়ে টিকা কেনার পরামর্শ দিয়েছিল।

  • বর্তমানে ‘অপারেশনাল প্ল্যান’ (OP) না থাকায় কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে জলাতঙ্কসহ শিশুদের ইপিআই কর্মসূচির বেশ কিছু টিকার মজুত তলানিতে ঠেকেছে।

টিকা সংকটে সাধারণ মানুষ

জলাতঙ্ক একটি মরণব্যাধি, যেখানে সঠিক সময়ে টিকা না নিলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই দেশে এই টিকার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। মুন্সীগঞ্জের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাচ্ছেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেখানে বলছেন “একটি টিকারও সংকট নেই”, সেখানে খোদ সরকারি কর্মকর্তার তথ্য এবং রোগীদের হাহাকার এক ভিন্ন বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। এই দ্বন্দ্বে সত্য চাপা দিতে শাস্তির পথ বেছে নেওয়া হলো কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy