ভোপাল ট্র্যাজেডি থেকে ইন্দিরা গান্ধীর ডায়েরি— বিদায় নিলেন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই!

ভারতীয় চিত্র সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই। রবিবার ভোররাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্প ও সাংবাদিকতা মহলে। তাঁর পুত্র নীতিন রাই সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানান, গত দু’বছর ধরে তিনি মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। প্রোস্টেট এবং পেটের ক্যানসার সারিয়ে উঠলেও সম্প্রতি রোগটি তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা আর ক্যানসারের এই মরণপণ লড়াই শেষে থামল তাঁর বর্ণময় জীবন। রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

রঘু রাইকে ভারতীয় ফটোগ্রাফির ‘জনক’ বা ‘ভীষ্মপিতামহ’ বলা হয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারতের উত্থান-পতন, আনন্দ-বেদনা এবং ইতিহাসের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দি করেছেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। তিনি ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফি সংস্থা ‘ম্যাগনাম ফোটোজ’-এর সদস্য হওয়া প্রথম ভারতীয়দের একজন।

তাঁর তোলা ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সেই নিথর শিশুর ছবি আজও বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই একটি ছবিই বদলে দিয়েছিল কর্পোরেট দায়বদ্ধতার সংজ্ঞা। মাদার টেরেসা থেকে শুরু করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী— রঘু রাইয়ের লেন্সে ধরা পড়েছে ভারতের রথী-মহারথীদের জীবনের অদেখা সব অধ্যায়। মাদার টেরেসাকে নিয়ে তাঁর প্রকাশিত বই ‘সন্ত মাতা’ আজও মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘দ্য স্টেটসম্যান’ দিয়ে শুরু করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র দীর্ঘ পথচলায় তিনি উপহার দিয়েছেন ১৮টিরও বেশি আকর গ্রন্থ। আজ তাঁর লেন্স নিথর হলেও, তাঁর তোলা ছবিগুলো ভারতের ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy