: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে কোনো সরাসরি বৈঠক ছাড়াই আজ ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
আলোচনা কি স্থগিত? কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা সম্পূর্ণ স্থগিত না হলেও একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল না। বরং, ইরান তাদের দাবি এবং পর্যবেক্ষণগুলো মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাকিস্তান এখন এই প্রস্তাবগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেবে।
ঘটনাক্রম:
ইরানের অবস্থান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, আপাতত সরাসরি আলোচনা নয়, বরং পাকিস্তানের মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী।
মার্কিন প্রতিনিধিদল: হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল যে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন। কিন্তু আরাঘচি পাকিস্তান ত্যাগ করার সময় পর্যন্ত তাদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী গন্তব্য: ইসলামাবাদ থেকে আরাঘচি এখন ওমানের মাস্কাটে যাচ্ছেন। ওমান ঐতিহ্যগতভাবে ইরান ও পশ্চিমী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী। এরপর তার রাশিয়া যাওয়ারও কথা রয়েছে।
কেন এই দূরত্ব? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান চাইছে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে আগে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেতে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন চাইছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর গ্যারান্টি। সরাসরি টেবিল না বসায় বর্তমানে এই আলোচনার ভাগ্য এখন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের হাতে।





