২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তিলোত্তমায় এখন নিরাপত্তার কড়াকড়ি তুঙ্গে। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই সতর্ক হচ্ছে লালবাজার। কোনোভাবেই যাতে শহরের শান্তি বিঘ্নিত না হয় এবং বাইরে থেকে কোনো দুষ্কৃতী এসে ডেরা বাঁধতে না পারে, তার জন্য শহরজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করল কলকাতা পুলিশ।
হোটেল ও লজে চিরুনি তল্লাশি: লালবাজারের নির্দেশে শনিবার রাত থেকেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় সব হোটেল, গেস্ট হাউস এবং লজগুলিতে পুলিশি নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন চত্বর এবং মধ্য কলকাতার হোটেলগুলিতে অতর্কিতে হানা দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। বোর্ডারদের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড (ID Card) সঠিক আছে কি না, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে থাকছেন কি না— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লালবাজারের কড়া নির্দেশিকা: হোটেল মালিকদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েকদিন কোনোভাবেই পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে রুম দেওয়া যাবে না। প্রতিটি গেস্টের নথি দ্রুত স্থানীয় থানায় পাঠাতে হবে। কোনো ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তৎক্ষণাৎ লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে।
সীমানায় নাকা চেকিং: শহরের প্রবেশপথগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নাকা চেকিং। ভিআইপি রোড, ইএম বাইপাস এবং তারাতলা রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাইরে থেকে আসা প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা বেআইনি টাকা শহরে প্রবেশ করতে না পারে।
ড্রোনে নজরদারি ও সাদা পোশাকের পুলিশ: শহরের জনবহুল বাজার এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকছে লালবাজারের সাদা পোশাকের পুলিশ এবং গোয়েন্দা শাখার (DD) অফিসাররা।
পুলিশি তৎপরতা নিয়ে ডিসিপি-র বক্তব্য: কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “ভোটের আগে নিরাপত্তার খাতিরে এটি একটি রুটিন তল্লাশি। আমরা চাই মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিক। কোনো ধরণের গুজব বা অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে লালবাজার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”





