আম আদমি পার্টির জন্য আজ দিনটি ছিল যেন এক রাজনৈতিক মহাপ্রলয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের সঙ্গী রাঘব চড্ডা এক ধাক্কায় ৬ জন সাংসদকে সাথে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতেই রাগে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়ল আপ নেতৃত্ব। শুক্রবার দলের প্রবীণ নেতা সঞ্জয় সিং এক বিষ্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলনে রাঘব চড্ডা ও তাঁর সঙ্গীদের তীব্র আক্রমণ করে ‘বেইমান’ এবং ‘সুবিধাবাদী’ বলে দেগে দিয়েছেন।
“যা চেয়েছিল সব দিয়েছি”: আপ-এর পাল্টা তোপ দলের সেনাপতি সঞ্জয় সিং এদিন বলেন, “পার্টি রাঘবকে বিধায়ক করেছে, পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছে, এমনকি অল্প বয়সেই দলের বড় দায়িত্ব দিয়েছে। যখন যা চেয়েছে অরবিন্দ কেজরীওয়াল তাই দিয়েছেন। কিন্তু আজ তারা সেই বিজেপির কোলে চড়ে বসল যারা দিনরাত আম আদমি পার্টিকে শেষ করার চক্রান্ত করছে।”
কেজরীওয়ালের একলাইনের কড়া বার্তা: অরবিন্দ কেজরীওয়াল নিজে সরাসরি কোনো বিবৃতি না দিলেও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “বিজেপি আবারও পাঞ্জাবিদের সাথে জোচ্চুরি (ধাক্কা) করল।” দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর ভয় দেখিয়ে ‘অপারেশন লোটাস’-এর মাধ্যমে এই সাংসদদের কেনা হয়েছে।
পাঞ্জাবের মানুষের ‘পিঠে ছুরি’? সঞ্জয় সিংয়ের দাবি, এই সাংসদরা শুধু দলের সঙ্গেই নয়, পাঞ্জাবের মানুষের রায়ের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি বলেন:
অশোক মিত্তালকে কয়েকদিন আগেই ইডি তলব করেছিল, আর আজই তিনি বিজেপিতে!
ভগবন্ত মান সরকারের ভালো কাজ আটকে দিতেই মোদি-শাহ এই নোংরা খেলা খেললেন।
পাঞ্জাবের মানুষ এই ৭ জন ‘গদ্দার’-এর নাম আজীবন মনে রাখবে এবং সময়মতো জবাব দেবে।
রাঘবের পাল্টা জবাব: অন্যদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাঘব চড্ডা জানিয়েছেন, তিনি ‘ভুল মানুষের সাথে ভুল দলে’ ছিলেন। আপ এখন আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে না, বরং দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের নীতি বাঁচাতে এবং দেশের স্বার্থেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাঘব।
উপসংহার: রাঘব চড্ডা, হর্ষভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল ও সন্দীপ পাঠকের মতো হেভিওয়েটদের এই প্রস্থান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দলের ভবিষ্যৎকে এক বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিল। এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ কি পাঞ্জাব ও দিল্লির ভোটারদের মনে রেখাপাত করবে? উত্তর দেবে আগামী নির্বাচন।





