পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শুরু হতেই মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ফিরল সেই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির চেনা ছবি। বুধবার রাতের সংঘর্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালের বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি—ভোটের শুরুতেই উত্তেজনার পারদ চড়ল ডোমকলে।
সকালে বন্দুকের দাপট, বিকেলে রিপোর্ট তলব
বৃহস্পতিবার সকালে ভোট শুরু হতেই বাম সমর্থকদের একাংশ অভিযোগ করেন, বুথে যাওয়ার পথে তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, প্রকাশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি। খবর পেয়ে পরবর্তীতে বাহিনী পৌঁছালে ভোটারদের আশ্বস্ত করে বুথে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্য়েই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।
রক্তাক্ত মোক্তারপুর: হাঁসুয়ার কোপে জখম ৪
ভোটের আগের রাত থেকেই অশান্তির আঁচ ছিল এলাকায়। ডোমকলের রায়পুর এলাকার মোক্তারপুর কারিগড়পাড়ায় তৃণমূল ও সিপিআইএম-এর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে।
সিপিআইএম-এর অভিযোগ: প্রচার সেরে ফেরার পথে বাম কর্মীদের ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূলীরা।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: বামেদের উস্কানিতেই এই ঝামেলার সূত্রপাত।
এই ঘটনায় অন্তত ৪ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কমিশনের নজরদারি
রায়পুর গ্রামে ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বারংবার ডোমকলে কেন এই অশান্তির ছবি ফিরে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ভোটাররা।





