রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কপালে ভাঁজ ফেলছে ইলেকট্রিসিটি বিল। এসি, ফ্রিজ বা কুলারের ব্যবহার তো বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু ব্যবহারের ধরণ একটু বদলে নিলেই মাস শেষে মিটারের রিডিং দেখে আপনি চমকে যেতে পারেন। কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবেন? রইল সহজ কিছু সমাধান:
১. এসি ব্যবহারের সঠিক কৌশল
অনেকেই মনে করেন এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। এটি ভুল ধারণা।
২৪-২৬ ডিগ্রি ম্যাজিক: এসি সবসময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে সেট করুন। এতে কমপ্রেসারের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় হয়।
ফ্যান ও এসির মেলবন্ধন: এসি চালানোর সময় হালকা স্পিডে সিলিং ফ্যান চালিয়ে দিন। এতে ঘরের ঠান্ডা হাওয়া দ্রুত সব কোণায় ছড়িয়ে পড়বে।
ফিল্টার পরিষ্কার: নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন। নোংরা ফিল্টার থাকলে মেশিন ঘর ঠান্ডা করতে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ খরচ করে।
২. ফ্রিজ ব্যবহারে সাবধানতা
বাড়ির একমাত্র যন্ত্র যা ২৪ ঘণ্টা চলে, তাই ফ্রিজের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
গরম খাবার নৈব নৈব চ: কখনোই গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে ঢোকাবেন না। খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তবেই ভেতরে রাখুন।
দরজা খোলা-বন্ধ: বার বার অকারণে ফ্রিজের দরজা খুলবেন না। এতে ভেতরের ঠান্ডা বেরিয়ে যায় এবং তা পুনরায় ঠান্ডা করতে মেশিন বেশি বিদ্যুৎ টানে।
৩. কুলারের স্মার্ট ব্যবহার
এসি-র তুলনায় কুলার বিদ্যুৎ কম খেলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
ক্রস ভেন্টিলেশন: কুলার কখনোই বদ্ধ ঘরে চালাবেন না। জানলা-দরজা খোলা রাখলে কুলার বাইরে থেকে তাজা হাওয়া নিয়ে ঘরকে বেশি ঠান্ডা করবে।
কুলিং প্যাড পরিবর্তন: কুলারের ঘাসের বা মধুর চাকের মতো প্যাডগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করুন বা প্রয়োজনে বদলে নিন।
৪. লাইট ও অন্যান্য সরঞ্জামের খেয়াল
পুরোনো ফিলামেন্ট বাল্ব বদলে এলইডি (LED) ব্যবহার করুন।
ঘর থেকে বেরোনোর সময় শুধু সুইচ নয়, সম্ভব হলে প্লাগ পয়েন্ট থেকে যন্ত্র বিচ্ছিন্ন করুন।
৫. সঠিক তার ও ওয়্যারিং
অনেক সময় পুরোনো বা নিম্নমানের ইলেকট্রিক তারের কারণে লিকেজ হয়ে বিল বেশি আসে। বাড়িতে সার্কিট ব্রেকার বা ভালো মানের ওয়্যারিং আছে কি না, অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে একবার যাচাই করিয়ে নিন।
এক নজরে পাওয়ার সেভিং গাইড:
এসি চালান ২৪°C – ২৬°C তাপমাত্রায়।
এসির ফিল্টার ও কুলারের প্যাড পরিষ্কার রাখুন।
ফ্রিজে গরম খাবার রাখা বন্ধ করুন।
জানলা-দরজা বন্ধ করে এসি চালান, কিন্তু কুলারের সময় জানলা খোলা রাখুন।





