লাদাখের নুব্রা উপত্যকায় শাইলক নদীর তীরে ছবির মতো সাজানো এক গ্রাম তুরতুক। কারাকোরাম এবং হিমালয়ের মাঝখানে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার শিহরণ জাগানো রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এক সময় যে গ্রাম ছিল পাকিস্তানের মানচিত্রে, ১৯৭১ সালের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর তা স্থায়ীভাবে ভারতের অংশ হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের মোড় ও এক রাতের পরিবর্তন
১৯৪৭-৪৮ সালের যুদ্ধের পর তুরতুক পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় প্রেক্ষাপট বদলে যায়। মেজর চেওয়াং রিনচেনের (পরবর্তীতে কর্নেল) নেতৃত্বে ভারতীয় সেনার একটি চৌকস দল দুর্গম পাহাড় চড়ে একের পর এক পাকিস্তানি ঘাঁটি দখল করতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর একদিকে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতের মানচিত্রে যুক্ত হয় তুরতুক। মেজর রিনচেনকে এই অসামান্য বীরত্বের জন্য ‘মহাবীর চক্র’ দেওয়া হয়।
কার্গিল যুদ্ধের বীরত্ব ও ক্যাপ্টেন হানিফউদ্দিনের আত্মত্যাগ
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ও তুরতুক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ‘অপারেশন বিজয়’-এর অংশ হিসেবে ১৮,৫৫০ ফুট উচ্চতায় এক মরণপণ লড়াইয়ে শামিল হন ক্যাপ্টেন হানিফউদ্দিন। লক্ষ্য থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে থাকাকালীন শত্রুর গুলিতে শহীদ হন এই ২৫ বছর বয়সী তরুণ বীর। তাঁর সম্মানে ওই অঞ্চলের নাম রাখা হয় ‘সাব সেক্টর হানিফ’।
সংস্কৃতি ও কৌশলগত গুরুত্ব
তুরতুকে বর্তমানে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস, যারা মূলত বাল্টি সংস্কৃতির ধারক। এখানে আজও বাল্টিস্তানের রাজা ইয়াবগো মহম্মদ খান কাচোর প্রাসাদ রয়েছে। আপেল ও অ্যাপ্রিকট চাষই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। তবে পর্যটনের বাইরেও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তুরতুক অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং সিয়াচেন বেস ক্যাম্পের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটি ভারতীয় সেনার জন্য এক কৌশলগত দুর্গ হিসেবে কাজ করে।





