উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি! কোচবিহার থেকে কলকাতা— ৮০০ তৃণমূল নেতার নাম জমা পড়ল আদালতে, বড় আশঙ্কায় ঘাসফুল শিবির

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে নজিরবিহীন আইনি লড়াই শুরু হলো কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্য জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৮০০ জন নেতা ও কর্মীকে নির্বাচন কমিশন গ্রেফতার করতে পারে— এই আশঙ্কায় সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হলো শাসকদল। প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

কারা আছেন তৃণমূলের তালিকায়? তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলাভিত্তিক যে তালিকা আদালতে পেশ করা হয়েছে, তাতে দলের প্রথম সারির একাধিক নেতার নাম রয়েছে। সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সদস্য— বাদ যাননি কেউই।

জেলার কিছু উল্লেখযোগ্য নাম:

  • কোচবিহার: উদয়ন গুহ (দিনহাটার প্রার্থী), পরেশ অধিকারী (মেখলিগঞ্জের প্রার্থী), অভিজিৎ দে ভৌমিক এবং পার্থপ্রতিম রায়।

  • কলকাতা: শান্তনু সেন (প্রাক্তন সাংসদ), স্বরূপ বিশ্বাস (রাসবিহারী), বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।

  • উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ: উত্তর দিনাজপুরের হামিদুল রহমান, বীরভূমের বিকাশ রায়চৌধুরী, পশ্চিম মেদিনীপুরের শিবপ্রসাদ রায় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অনিমেষ মণ্ডল।

  • অন্যান্য জেলা: পুরুলিয়ার সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার মলয় মুখোপাধ্যায় এবং হুগলির কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।

কেন এই আইনি তৎপরতা? তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সক্রিয় কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জির ভিত্তিতে আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, পুরনো মামলা বা প্ররোচনামূলক অভিযোগে ভোটের ঠিক আগেই তাঁদের এই ‘ফিল্ড ওয়ার্কার’দের জেলবন্দি করা হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এত বিশাল সংখ্যক নেতার নাম উল্লেখ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা, অন্যদিকে কমিশনের ওপর পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy