ভোটের ডিউটিতে গাফিলতি? খড়গহস্ত নির্বাচন কমিশন! ভবানীপুরের ৩ অফিসারের বিরুদ্ধে শুরু বিভাগীয় তদন্ত

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিল কমিশন। সাসপেন্ড করা হলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা তিন সরকারি কর্মীকে।

কারা এই তিন অফিসার? সাসপেন্ড হওয়া তিন সরকারি কর্মীর নাম— সুরঞ্জন দাস, সৌভিক নন্দী এবং সত্যরঞ্জন পাল। তাঁরা ভবানীপুর বিধানসভার অধীনে নির্বাচন কমিশনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্লাইং স্কোয়াড টিম’ (FST)-এর দায়িত্বে ছিলেন।

কেন এই কড়া ব্যবস্থা? কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ফ্লাইং স্কোয়াড টিমের ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, অভিযুক্তরা তা যথাযথভাবে পালন করেননি। এক্সপেনডিচার অবজার্ভার (ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সাসপেনশন নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

অন্যান্য জেলাতেও জারি ‘ঝাঁট’: শুধু ভবানীপুর নয়, নিরপেক্ষতা ভঙ্গের দায়ে রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গায় কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • অশোকনগর: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে শাসকদলের হয়ে প্রচার এবং দেওয়াল লিখনের অভিযোগে ৩ জন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • বীরভূম: দুবরাজপুর এবং ময়ূরেশ্বরেও একইভাবে নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে বিএলও-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।

কমিশনের বার্তা: কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটের ডিউটিতে থাকাকালীন কোনো আধিকারিক বা কর্মী যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেন কিংবা অর্পিত দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদর্শ আচরণবিধি (MCC) রক্ষায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy