মোদী ঝালমুড়ি খেতেই ভাইরাল এই পেশা, কিন্তু বাস্তবে কত আয় করেন বিক্রেতারা?

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই এই পেশার লাভ-লোকসান নিয়ে হিসেব কষতে শুরু করেছেন। কিন্তু এসপিজি (SPG) ঘেরা সেই ঝালমুড়ির স্বাদ আর বাস্তবের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরানো ঝালমুড়ির সংগ্রামের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নয়ডার সেক্টর ১২৬-এর এক ভেলপুরি ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা প্রহ্লাদের জীবনের গল্প সেই কঠিন বাস্তবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

১৮ বছরের লড়াই, প্রাপ্তি শুধুই অনিশ্চয়তা: ২০০৮ সালে মধ্যপ্রদেশ থেকে কাজের সন্ধানে নয়ডায় এসেছিলেন প্রহ্লাদ। গত ১৮ বছর ধরে তিল তিল করে এই পেশার সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন তিনি। প্রহ্লাদ জানান, মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে পকেটে যা ঢোকে তা দিয়ে সংসার চালানো যুদ্ধের সমান।

আয়ের হিসেবে টানাপোড়েন: নয়ডার মতো ব্যয়বহুল শহরে প্রহ্লাদের মাসিক গড় আয় মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

  • খরচের হিসেব: পাঁচ জনের সংসারে ঘরভাড়াই দিতে হয় ৫ হাজার টাকা।

  • বাকি টাকা: স্ত্রী ও তিন সন্তানের খাবার, পড়াশোনা আর ওষুধের খরচ মেটাতেই সব শেষ। আবেগপ্রবণ হয়ে প্রহ্লাদ বলেন, “লোকে ভাবে এত বছর কাজ করছি, নিশ্চয়ই অনেক কিছু করেছি। কিন্তু সত্যিটা হলো, আজও নিজের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাই।”

প্রশাসনের কোপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: কেবল আর্থিক অভাবই নয়, প্রহ্লাদদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের বড় শত্রু প্রশাসনিক চাপ। পুলিশের তাড়া কিংবা আচমকা ঠেলাগাড়ি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক লহমায় নষ্ট হয়ে যায় কয়েক দিনের রোজগার। কখনও রাতে দোকান রেখে গিয়ে সকালে দেখেন, রোজগারের একমাত্র সম্বল গাড়িটিই উধাও।

বর্ষার আশায় দিন গোনা: সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়িয়ে কোনোমতে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন তিনি। গরম বা শীতের চেয়ে বর্ষাকালেই ঝালমুড়ি বা ভেলপুরির চাহিদা বাড়ে, আর সেইটুকু বাড়তি আয়ের আশায় বছরের পর বছর ফুটপাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই ‘অখ্যাত’ কারিগররা।

মোদী-মমতার রাজনৈতিক তরজায় ঝালমুড়ি আজ জাতীয় আলোচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু প্রহ্লাদদের মতো হাজার হাজার মানুষের কাছে এটি কেবলই একমুঠো অন্নের লড়াই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy