নয়ডার শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ ও নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ আদিত্য আনন্দকে তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত এই পলাতক অপরাধী।
কে এই আদিত্য আনন্দ?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১০ এপ্রিল নয়ডার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের সূচনা হয়। ১৩ এপ্রিল সেই বিক্ষোভ বিধ্বংসী রূপ নেয়, যেখানে ১০০-রও বেশি কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং বহু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, এই পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং আদিত্য আনন্দই এর নেপথ্যে মূল মস্তিস্ক হিসেবে কাজ করছিল। ঘটনার পর থেকেই সে বেপাত্তা ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
তদন্ত ও গ্রেফতারি:
ডিজিটাল এভিডেন্স ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জানতে পারে যে আদিত্য দক্ষিণে গা ঢাকা দিয়েছে। এরপরই ইউপি পুলিশ ও এসটিএফ-এর একটি যৌথ দল তামিলনাড়ুতে হানা দিয়ে তাকে পাকড়াও করে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে গৌতম বুদ্ধ নগরে আনা হয়েছে। আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের হদিশ:
পুলিশের দাবি, এটি কেবল সাধারণ কোনো বিক্ষোভ ছিল না; বরং একটি সংগঠিত গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই হিংসা উস্কে দিয়েছিল। বিক্ষোভের পেছনে অর্থের উৎস এবং আরও কারা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে আদিত্যকে জেরা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।





