থানায় গিয়ে সারেন্ডার করো, নইলে ৪ মে-র পর…! বিষ্ণুপুর-মেদিনীপুর থেকে তৃণমূলকে শেষ হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর!

বিধানসভা ভোটের কাউন্টডাউন শুরু। তার ঠিক আগেই মেদিনীপুরের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে ‘মহা জঙ্গলরাজ’—শাসকদলকে নিশানা করতে কোনো শব্দই বাকি রাখলেন না তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে লুঠের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছে তৃণমূল।

“লুঠপাটে পিএইচডি করেছে তৃণমূল”

রবিবার মেদিনীপুরের ‘বিজয় সঙ্কল্প সভা’ থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মোদী বলেন, পড়াশোনার জগৎ নয়, বরং দুর্নীতির জগতে ডক্টরেট ডিগ্রি হাসিল করেছে জোড়াফুল শিবির। তাঁর অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ:

  • স্কুল শিক্ষক নিয়োগ থেকে মিড-ডে মিলের টাকা—সবই গায়েব।

  • মনরেগা (১০০ দিনের কাজ) এবং গরিবের ঘরের টাকাতেও থাবা বসানো হয়েছে।

  • সাইক্লোন ত্রাণ থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তার টাকা পর্যন্ত লুঠ হয়েছে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।

মোদীর খোঁচা, “১৫ বছরে ওরা লুঠপাটে পিএইচডি করে ফেলেছে। মা-মাটি-মানুষ কাউকেই রেহাই দেয়নি এই দল।”

“২৯ এপ্রিলের মধ্যে সারেন্ডার করো!”

এদিন শুধুমাত্র আক্রমণ নয়, কার্যত চরম হুঁশিয়ারিও শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। বিষ্ণুপুর ও মেদিনীপুরের সভা থেকে তৃণমূলের ‘গুন্ডা ও সিন্ডিকেট’ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন:

“আমি সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্তদের শেষ সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগে নিকটতম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। ৪ মে-র (ভোট গণনা) পর কাউকে ছাড়া হবে না। বাংলার মাফিয়া ও সিন্ডিকেট রাজ আর বরদাস্ত করা হবে না।”

মোদী ম্যাজিক না কি পরিবর্তনের হাওয়া?

মেদিনীপুরের জনস্রোত দেখে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এবার বিজেপি লড়ছে না, বরং বাংলার সাধারণ মানুষই এই লড়াই লড়ছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘রোজগার মেলা’র মাধ্যমে যুবকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে এবং প্রতিটি দুর্নীতির কড়া হিসাব নেওয়া হবে।

২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের আগে মোদীর এই ‘PhD’ কটাক্ষ এবং ‘সারেন্ডার’ হুঁশিয়ারি যে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। DailyHunt-এর পাঠকদের নজর এখন ৪ মে-র ফলাফলের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy