ভারত মহাসাগরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। মরিশাসের সমুদ্র অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’ (Blue Economy) রক্ষায় এবার সরাসরি ময়দানে নামল নয়াদিল্লি। মরিশাসের উপকূলীয় সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় সে দেশের মোট ৫১৬ জন অফিসারকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিল ভারতীয় বাহিনী।
কেন মরিশাসের পাশে ভারত?
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে মরিশাস ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। মরিশাসের সমুদ্রসীমা রক্ষা করা মানেই ভারতের নিজের জলসীমার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সুরক্ষা কবচ: মরিশাসের অফিসারদের আধুনিক সামুদ্রিক নজরদারি এবং শত্রু মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন।
অর্থনৈতিক স্বার্থ: ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্রের নীল জলরাশির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মৎস্য চাষ, খনিজ উত্তোলন এবং পর্যটন শিল্পকে সুরক্ষিত রাখা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণে কী কী শেখানো হলো?
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৫১৬ জন মরিশাস অফিসারকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ১. ড্রোন ও রাডার নজরদারি: গভীর সমুদ্রের গতিবিধি ট্র্যাকিং করা। ২. নেটওয়ার্কিং: দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সামুদ্রিক অপরাধ দমনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। ৩. বিপর্যয় মোকাবিলা: সমুদ্রের তলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা তেল নিঃসরণের মতো ঘটনা সামলানো।
কৌশলগত বার্তা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাগর’ (SAGAR – Security and Growth for All in the Region) নীতির অধীনেই এই সহযোগিতা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতই হলো প্রধান শক্তি। মরিশাসের সঙ্গে এই জোট কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এক বিশাল সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সমুদ্রের নীল জলরাশির সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মরিশাস যেন স্বাবলম্বী হতে পারে এবং কোনো বিদেশি শক্তির (বিশেষ করে চীনের) ওপর নির্ভর করতে না হয়, সেটাই নিশ্চিত করল ভারত।





