সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবেই দেখা গেল ‘শোলে’র বীরু-মার্কা নাটক! তবে এবার টাওয়ারে চড়েছেন খোদ এক তরুণী। দাবি একটাই— ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ‘বাবু’কে বিয়ে করতে হবে। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ভোরে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই টানটান নাটক শেষে পুলিশ ওই তরুণীকে নিচে নামাতে সক্ষম হয়।
কী ঘটেছিল সেই ভোরে? ঘটনাটি গোরখপুর জেলার গোরখনাথ থানা এলাকার। পুলিশ সূত্রে খবর, গাজিপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী ভোর ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে পড়েন। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মী বিষয়টি দেখতে পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু তরুণী নাছোড়বান্দা! টাওয়ারের ওপর থেকে চিৎকার করে তাঁর হুমকি, “সে আমাকে বিয়ের কথা দিয়েছিল। এখন কেন বিয়ে করছে না? বিয়ে না করলে আমি এখান থেকেই ঝাঁপ দেব!”
নেপথ্যে দীর্ঘদিনের প্রেম ও মামলার জাল: তরুণীর অভিযোগ, গোরখপুরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ওই ইন্সপেক্টরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সহবাসের অভিযোগও তোলেন তিনি। এমনকি গত ২১ মে, ২০২৫ তারিখে গাজিপুরের নন্দগঞ্জ থানায় ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও দায়ের করেছিলেন তিনি। তরুণীর দাবি, ইন্সপেক্টর এখন তাঁকে চিনতেই অস্বীকার করছেন।
ইন্সপেক্টরের পালটা দাবি: নাটক চরমে উঠলে পুলিশ ওই অভিযুক্ত ইন্সপেক্টরকে ঘটনাস্থলে তলব করে। তবে তিনি সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তাঁর দাবি, গাজিপুরে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ পেয়েছেন। তরুণীটি তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার জন্যই এই পথ বেছে নিয়েছেন।
৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকার্য: ইন্সপেক্টর আসার পর এবং পুলিশের দীর্ঘ বোঝাপড়ার পর সকাল ৮টা নাগাদ ওই তরুণীকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। সার্কেল অফিসার রবি কুমার সিং জানিয়েছেন, তরুণীকে নিরাপদে উদ্ধার করে গোরখনাথ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং গাজিপুর পুলিশকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রেমের টানে মোবাইল টাওয়ারে চড়ে বসার এই রোমহর্ষক ঘটনা এখন গোটা উত্তরপ্রদেশে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। খোদ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে প্রশাসনও।





