শেয়ার বাজারের অস্থিরতায় যখন লগ্নিকারীদের রাতের ঘুম উবে যাওয়ার জোগাড়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার আর এক নাম হয়ে উঠেছে ভারত সরকারের পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)। সুরক্ষার পাশাপাশি নিশ্চিত এবং আকাশছোঁয়া রিটার্ন—এই জোড়া সুবিধাই পিপিএফ-কে করে তুলেছে বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা।
৭.১% সুদের জাদু: বর্তমানে পিপিএফ-এ বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে এর আসল শক্তি হলো চক্রবৃদ্ধি হার (Compound Interest)। দীর্ঘমেয়াদে এই সুদের প্রভাবেই আপনার জমানো সামান্য অর্থ কয়েক গুণ বেড়ে পাহাড়প্রমাণ তহবিলে পরিণত হতে পারে।
১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মালিক হবেন কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর হলেও ৫ বছর করে যতবার খুশি তা বাড়ানো যায়।
যদি কেউ টানা ২৫ বছর বছরে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা করে জমা করেন, তবে মেয়াদ শেষে তাঁর হাতে আসবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
এই বিশাল অঙ্কের ওপর ৭.১% সুদ ধরলে আপনার বার্ষিক আয় হবে ৭ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, কোনো কাজ না করেই আপনি ঘরে বসে মাসে প্রায় ৬১ হাজার টাকা নিশ্চিত আয় করতে পারবেন।
মাসে ২০ হাজার টাকা পেতে চাইলে কী করবেন? অনেকেই চান অবসর জীবনে অন্তত হাতখরচ হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা নিশ্চিত আসুক। তাদের জন্য হিসেবটি অত্যন্ত সহজ:
বিনিয়োগ: মাসে মাত্র ৭,০০০ টাকা।
সময়: ২০ বছর (১৫ বছর + ৫ বছর এক্সটেনশন)।
ফলাফল: ৭.১% সুদে ২০ বছর পর আপনার তহবিলে জমা হবে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। এই টাকা থেকেই বছরে ২.৫ লক্ষ টাকা সুদ আসবে, যা মাসিক হিসেবে দাঁড়াবে প্রায় ২০,৮০০ টাকা।
বাড়তি সুবিধা: পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারা অনুযায়ী কর ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রকল্প হওয়ায় টাকা ডুবে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে যারা নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান, তাদের জন্য পিপিএফ-ই হতে পারে সেরা হাতিয়ার।





