বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের জন্য ফের দুঃসংবাদ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাদার কোম্পানি ‘মেটা’ এক বিশাল ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পথে হাঁটতে চলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জন্য পরিকল্পিত এই গণ-ছাঁটাইয়ের প্রথম ধাপটি কার্যকর হতে পারে আগামী ২০ মে। প্রাথমিক এই ধাপে মেটা তাদের বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বছরের দ্বিতীয় ভাগে আরও এক দফায় বড় ছাঁটাই হতে পারে। যদিও তার সময়সীমা বা সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গত মাসেই জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, মেটা তাদের মোট কর্মীর ২০ শতাংশ বা তারও বেশি ছাঁটাই করতে পারে। যদিও মেটা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
কেন এই আকস্মিক ছাঁটাই?
বর্তমানে মেটার আর্থিক অবস্থা বেশ স্থিতিশীল। গত বছর কোম্পানিটি ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এবং ৬০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। তা সত্ত্বেও সিইও মার্ক জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর পেছনে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছেন। জাকারবার্গের লক্ষ্য হলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে আমূল বদলে ফেলা, যেখানে মানুষের বদলে AI-এর মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো হবে। অর্থাৎ, দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান কমছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে আতঙ্কের পরিবেশ:
মেটার এই সিদ্ধান্ত একক কোনও ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অ্যামাজন প্রায় ৩০,০০০ কর্পোরেট কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ফিনটেক সংস্থা ‘ব্লক’ তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মীবাহিনী ছেঁটে ফেলেছে। ‘Layoffs.fyi’-এর তথ্যমতে, চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ৭৩,২১২ জন প্রযুক্তি কর্মী কাজ হারিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালে মেটা যখন ‘ইয়ার অফ এফিসিয়েন্সি’র নামে ২১,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছিল, সেই স্মৃতি ফের উসকে দিচ্ছে এবারের এই পদক্ষেপ। মেটার শেয়ার দর গত কয়েকদিনে ৩.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, সাধারণ কর্মীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।





