দেশজুড়ে তুমুল জল্পনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জোরালো সওয়াল সত্ত্বেও লোকসভায় পাশ করানো গেল না নতুন মহিলা সংরক্ষণ বিল (নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম – ২০২৬ সংশোধনী)। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটির সময় বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩০টি, যা সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের অংক ও সংসদীয় নাটক: এদিন বিকেল থেকেই মহিলা সংরক্ষণ বিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে টানটান উত্তেজনা ছিল। সরকার পক্ষ বিলটি অবিলম্বে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করে কার্যকর করার চেষ্টা করলেও, বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিলের সপক্ষে যথেষ্ট সমর্থন থাকলেও বিপক্ষের ২৩০টি ভোট বিলটিকে আটকে দেয়।
কেন এই বিরোধিতা? বিরোধী দলগুলির (ইন্ডিয়া জোট) প্রধান দাবি ছিল, এই বিলের ভেতরে ওবিসি (OBC) মহিলাদের জন্য আলাদা সাব-কোটা থাকতে হবে। এছাড়া রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতারা অভিযোগ তোলেন, ২০২৬ সালের ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে এই বিলকে যুক্ত করে আসলে মহিলাদের অধিকারকে আরও কয়েক দশকের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: বিল পাশ না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আজকের দিনটি ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি দুঃখজনক দিন। যাঁরা নারীশক্তির ক্ষমতায়নে বাধা দিলেন, দেশের মহিলারা তাঁদের যোগ্য জবাব দেবেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরোধীরা সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য কোটি কোটি মা-বোনেদের অধিকার ছিনিয়ে নিলেন।
ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব: সামনেই একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা একে তাদের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিজেপি একে হাতিয়ার করে মহিলা ভোটারদের সেন্টিমেন্ট উসকে দেওয়ার কৌশল নিতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? বিলটি এখন ঠান্ডা ঘরে চলে গেল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার পুনরায় নতুন কোনও প্রস্তাব বা সংশোধনীর মাধ্যমে বিলটি পেশ করতে পারে, তবে আপাতত আজকের হার মোদী সরকারের কাছে এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।





