নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে লোকসভায় গত দু’দিন ধরে যে উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধ চলছিল, শুক্রবার বিকেলে সেখানে হঠাৎই বয়ে গেল হাসির হাওয়া। সৌজন্যে— বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিলের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন এক রসিকতা করলেন রাহুল, যা শুনে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিরোধী আসন, হাসিতে ফেটে পড়লেন সকলেই।
কী সেই ‘স্ত্রী’ বিতর্ক? বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর একটি মন্তব্য ঘিরে। রিজিজু নিজের বক্তব্যের মাঝে স্ত্রীকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। পালটা দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী হাসি মুখে বলেন, “এই ঘরে উপস্থিত আমরা সবাই মা, বোন বা স্ত্রীর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবে প্রধানমন্ত্রী আর আমার সেই ‘স্ত্রী সংক্রান্ত ঝামেলা’ নেই, তাই ওই ইনপুটটা আমাদের পাওয়া হয় না!” নিজের ‘ব্যাচেলর’ অবস্থাকে হাতিয়ার করে রাহুলের এই চুটকি শুনে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও টেবিল চাপড়ে হাসতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে সংসদের গম্ভীর পরিবেশ হালকা হয়ে যায়।
প্রিয়াঙ্কা-অমিত শাহ ম্যাজিক: রসিকতা এখানেই থামাননি রাহুল। বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও খোঁচা দেন। রাহুল বলেন, “গতকাল দেখলাম আমার বোন প্রিয়াঙ্কা মাত্র ৫ মিনিটে যা করে দেখাল, আমি ২০ বছরেও তা পারিনি—ও অমিত শাহকে হাসাতে পেরেছে!” রাহুলের এই মন্তব্যে হাসির রোল ওঠে গ্যালারিতেও।
হাসি-ঠাট্টার আড়ালে কড়া বার্তা: তবে বিনোদনের রেশ কাটতে না কাটতেই চেনা ফর্মে ফেরেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত জীবনের রসিকতা থাকলেও দেশের নারীদের বঞ্চনা নিয়ে তিনি আপস করবেন না। তাঁর বক্তব্য:
মা ও বোনের অভিজ্ঞতাই তাঁকে নারীদের লড়াই বুঝতে শিখিয়েছে।
৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য কেন ডিলিমিটেশনের অপেক্ষা করতে হবে?
এই বিলটি আসলে একটি ‘পয়জন পিল’ (বিষাক্ত বড়ি), যা নারী কল্যাণের আড়ালে নির্বাচনী মানচিত্র বদলের ছক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধী এদিন অত্যন্ত কৌশলে হিউমার বা রসিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একদিকে যেমন তিনি শাসকদলের নেতাদের হাসিয়েছেন, অন্যদিকে সেই হাসির রেশ থাকতেই ডিলিমিটেশন ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন।





