পয়লা বৈশাখের সকালে উৎসবের মেজাজে ভাসছিল হাওড়া স্টেশন। নতুন জামা, হালখাতার নিমন্ত্রণ আর বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডার পরিকল্পনা নিয়ে স্টেশনে পৌঁছেছিলেন সৃজনী। স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার কথা ছিল তাঁর বান্ধবী অর্পিতার। কিন্তু বন্ধুকে স্বাগত জানাতে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন সৃজনী, যা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সত্যিই অবিশ্বাস্য।
৫০ টাকার নোটে ১০ টাকা ফেরত? প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগে টিকিট কাটতে গিয়ে সৃজনী যখন কাউন্টারে ৫০ টাকার নোট দেন, তখন বুকিং ক্লার্ক পাল্টা ১০ টাকা চেয়ে বসেন। সৃজনী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম বাড়েনি?” উত্তর আসে— না, বহুদিন ধরেই এই টিকিটের দাম মাত্র ১০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উৎসবের মরসুমে যখন সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, তখন রেলের এই সিদ্ধান্তের কারণ কী? বন্ধু অর্পিতার মতে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতেই রেল এই সল্পমূল্য বজায় রেখেছে।
নিয়ম মানার অনীহা ও প্ল্যাটফর্মের ভিড় এত কম দাম হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব চিত্রটা বেশ উদ্বেগজনক। মাত্র ১০ টাকা খরচ করে টিকিট কাটার বদলে অনেকেই বিনা টিকিটে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়ছেন। ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই কেবল সময় কাটানো বা আড্ডার উদ্দেশ্যে স্টেশনে প্রবেশ করছেন, যা ট্রেনের প্রকৃত যাত্রীদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্টেশনের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এবং পরিবেশ দূষণের সমস্যা। চায়ের ভাঁড় থেকে খাবারের মোড়ক— সব মিলিয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা প্রশ্নের মুখে।
রেল কর্তৃপক্ষের বার্তা এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, রেলওয়ের প্রধান লক্ষ্য যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য। তিনি বলেন, “প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম মাত্র ১০ টাকা রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই নিয়ম মেনে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেন। বৈধ টিকিট ছাড়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা কেবল আইনত অপরাধই নয়, এটি স্টেশনের শৃঙ্খলাও নষ্ট করে।”
পয়লা বৈশাখের আনন্দের মাঝে এই ঘটনাই মনে করিয়ে দিল যে, মাত্র ১০ টাকার একটি টিকিট স্টেশনের পরিবেশকে আরও সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে পারে। নিয়ম মানা কেবল কর্তব্য নয়, এটি সামগ্রিক রেল পরিষেবার মানোন্নয়নেও সহায়ক।





