ভোটের দামামা বাজতেই শহরে তল্লাশি অভিযানের পারদ চড়ছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন ও কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার রাতে জোড়াসাঁকো এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে পৃথক দু’টি অভিযানে উদ্ধার হল প্রায় ২২ লক্ষাধিক টাকা। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কী এবং নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের জন্য এই টাকা আনা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য দানা বেঁধেছে।
জোড়াসাঁকোয় পুলিশের বড় সাফল্য
১৬৫ নম্বর জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় রুটিন টহলদারির সময় তিন ব্যক্তির গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আটক করে খবর দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াডকে (FST)। কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ! ওই তিন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৩০০ টাকা নগদ উদ্ধার হয়। পুলিশের কাছে টাকা সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় নগদ বাজেয়াপ্ত করে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
জয়নগরে বাইক আরোহীর থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরেও নাকা চেকিংয়ের সময় ধরা পড়ল টাকার বান্ডিল। বকুলতলা থানার বুড়োরঘাট এলাকায় স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিমের (SST) তল্লাশিতে এক বাইক আরোহীর ব্যাগ থেকে ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। আটক ব্যক্তির নাম জুলফিকার শেখ। পুলিশি জেরায় উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট।
কড়া নজরদারিতে কমিশন
নির্বাচন প্রভাবিত করতে কালো টাকা বা অবৈধ লেনদেনের পথ রুখতে রাজ্যজুড়ে নাকা চেকিং এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। আধুনিক PTZ ক্যামেরা এবং SST-FST দলের বিশেষ নজরদারি ভ্যান চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের ভয়মুক্ত রাখতে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করতে এই ধরনের তল্লাশি আগামী দিনগুলিতে আরও কঠোরভাবে চালানো হবে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্দেহভাজন গাড়ি ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।





