নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আর হাতে সময় নেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঝোড়ো প্রচার সেরে এবার নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে (Bhowanipore) প্রচারে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁর পথসভা ও রোড-শো করার কথা। তবে মূল আকর্ষন হলো আগামী ২৬ তারিখের ‘মহামিছিল’, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে খাস কলকাতায়।
ঘরে মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: ভবানীপুর মানেই তৃণমূলের সবথেকে নিরাপদ দুর্গ। তবে ২০২৬-এর এই কঠিন লড়াইয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেল থেকে ভবানীপুরের শশীশেখর বোস রোড, বকুলবাগান ও হাজরা এলাকায় একাধিক ছোট পথসভা করবেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো সরকারি প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরবেন তিনি।
২৬ তারিখের মহামিছিলের রুট: আগামী ২৬শে এপ্রিল ভবানীপুরে যে মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।
রুট: মিছিলটি যদুবাবুর বাজার থেকে শুরু হয়ে আশুতোষ মুখার্জি রোড হয়ে হাজরা মোড় পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
উপস্থিতি: এই মিছিলে মমতার সঙ্গে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা-কর্মীরা ছাড়াও টলিউডের একঝাঁক তারকা থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে কেবল জেতা নয়, বরং জয়ের ব্যবধান কতটা বাড়ানো যায় সেটাই এখন তৃণমূলের লক্ষ্য। অন্যদিকে বিজেপিও ভবানীপুর কেন্দ্রে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে। তাই শেষবেলায় নিজের কেন্দ্রে প্রচার সেরে মমতা বিরোধীদের বার্তা দিতে চান যে, দক্ষিণ কলকাতা এখনও তাঁরই কবজায়।
ট্রাফিক সতর্কতা: মমতার রোড-শো এবং ২৬ তারিখের বড় মিছিলের কারণে দক্ষিণ কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল করা হতে পারে। অফিস ফেরিযাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘরের মেয়ের মিছিলে শামিল হতে এখন প্রহর গুনছে ভবানীপুর। শেষ লগ্নের এই প্রচার ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





